করোনা মহামারী এখনো দূর হয়নি। করোনার ভীতি ও আতংক কিছুটা কমেছে। অথচ করোনার শুরু দিনগুলোতে শারীরিক ও মানসিক বেদনায় তীব্র হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল মানুষ। তখন সবাই স্বপ্ন দেখেছিল, দূর হোক করোনা। আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠুক পৃথিবী। চেনা পথে প্রিয় স্বজনের হাত ধরে হেঁটে চলার সে কি আকুতি তখন। ছিল শিল্পকল্পা কিংবা চেরাগির মোড়ে আবারো হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠার আর্তনাদ। ঠিক ওই সময়ে একজন কবিও স্বপ্ন দেখেন, ছোটবেলার স্বপ্নের নায়ক ‘দস্যু বনহুর’ এর মতো দূর করে দিক মানুষের যন্ত্রণা। তাদের জন্য লুট করে আনুক ভালোবাসা ও মায়ায় ভরার স্বাভাবিক পৃথিবী।
এ কবি ওমর কায়সার। হতাশার দিনগুলোতে স্বপ্ন বুনেন কবিতায়। আশার বাণী শুনান কাব্যের ছন্দে। সে আশাগুলোকে মলাটবদ্ধ করেছেন ‘দস্যু বনহুরের মতো’ কাব্যগ্রন্থে। যেখানে পাঠককে ‘এক স্বপ্ন মোহাচ্ছন্ন ভূমিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কবি’। চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন থেকে বেরিয়েছে কাব্যগ্রন্থটি। এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে বইমেলায় কথা হয় দৈনিক আজাদীর সঙ্গে।
বললেন, করোনাকালে সারা পৃথিবীর মানুষের দিনগুলো গেছে অন্যভাবে। মানুষ এক ধরনের আতংকে ছিল। গৃহবন্দী ছিল। শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মধ্যে ছিল। সবমিলিয়ে ভয়াবহ সময়গুলো কাটিয়েছি মহামারী দিনে। এখনো মহামারী যায়নি, হয়তো আতংকটা কিছুটা কমেছে। সে আতংক, সে অসুস্থতা, সে কষ্টের কথাগুলো ‘দস্যু বনহুরের মতো’ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে এসেছে।
তিনি বলেন, শুধু আতংকের কথা না। আশার কথাও আছে। ছোটবেলায় প্রিয় নায়ক ছিল দস্যু বনহুর। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় দস্যু বনহুর এর মতো যদি হতে পারতাম। মানুষের কষ্টকে দূর করে দিয়ে যদি ওদের জন্য সুখ, মায়া ও ভালোবাসা লুট করে আনতে পারতাম। এ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে সে বোধটা আছে।
পাঠকের জন্য কোনো বার্তা আছে কীনা জানতে চাইলে বলেন, একটা কবিতা আছে ‘আগামীকাল’। ওখানে আশার কথা আছে। সে আশাগুলোর কথা এমন সময়ে লিখেছি যখন মানুষ আসলেই হতাশাগ্রস্ত ছিল। তিনি বলেন, সবার সঙ্গে আবার দেখা হবে, কথা হবে, চেরাগির মোড়ে আড্ডা হবে, আবার উৎসব হবে, আবার আমরা রোদের মধ্যে নামব, আবার কোলাহলে ফিরে যাব এমন আশার কথা আছে। কিন্তু তখন কোলাহলে ফিরে যাওয়া, মানুষের কাছে যাওয়া, মানুষের ভিড়ে যাওয়া, মেলায় ফিরে যাওয়া ছিল স্বপ্ন। তখন আশাবাদী যে কবিতা লিখেছিলাম সেটা এখন ফলতে বসেছে।
তিনি বলেন, একটা কবিতা আছে, ‘কেমন আছ শিল্পকলা’। শিল্পকলার রঙ্গমঞ্চ, নাটক, সিনেমা, মানুষের হাট-বাজার এগুলো কেমন আছে এই যে আকুলতা সেটাও আছে কাব্যে। বেশির ভাগ কবিতা করোনাকালে লেখা বলেও জানান তিনি।
একই প্রকাশনা সংস্থা থেকে ‘প্রেম ও সম্পর্ক’ নামে গল্পগ্রন্থও বেরিয়েছে ওমর কায়সারের। বিভিন্ন সময়ে পত্রপত্রিকায় ছাপা হওয়া গল্পগুলোর সংকলন এটি। ‘গত কয়েক দশকের বিভিন্ন সময়-পর্বে বিভিন্ন বয়সের ‘নর-নারীর সম্পর্কের বিচিত্র ভাব-অনুভাব-জটিলতা উঠে এসেছে গল্পে। প্রেম কি সম্পর্ক? সম্পর্ক কি প্রেম? পারিবারিক সম্পর্কের বাইরে প্রেম নিঃসন্দেহে বিশেষ। মূলত সেই বিশেষ সম্পর্কের কিছু গল্প স্থান পেয়েছে এ গ্রন্থে’।
চার দশক ধরে কবিতা লিখেন। কবি হিসেবেই পরিচিতি আছে। এর মধ্যেই বেরুল গল্পের বই। কবি ও গল্পকার। কোনটার মধ্যে বেশি তৃপ্তি পাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে ওমর কায়সার বলেন, সবসময় কবিতার ঘোরের মধ্যে থাকি। গল্প ফাঁকে ফাঁকে লিখি।













