সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যে এ ঘটনায় নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আবুধাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল রোববার আল–ধাফরা এলাকায় অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার ভেতরে ড্রোন হামলায় জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি এবং তেজস্ক্রিয়ার মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আমিরাতের পারমাণবিক কেন্দ্র পরিচালনা সংস্থা জানিয়েছে, আরব উপদ্বীপের প্রথম নির্মিত এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এই হামলার কারণে ব্যাহত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে সংস্থাটি জানিয়েছে, সব ইউনিট স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এই ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেনি। অন্যদিকে, আরব আমিরাতও প্রকাশ্যে কোনও দেশকে দায়ী করেনি। পরে এক বিবৃতিতে আমিরাতের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘সফলভাবে’ দুটি ড্রোন ঠেকিয়েছে। তবে তৃতীয় একটি ড্রোন বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে জেনারেটরে আঘাত হেনেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড্রোনগুলো ‘পশ্চিম সীমান্ত’ থেকে উড়ে এসেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। হামলা কোথা থেকে হয়েছে তা নিশ্চিত করে জানতে তদন্ত চলছে। খবর বিডিনিউজের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরুর পর থেকে এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের কাছ থেকে বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে আরব আমিরাত। গতকাল আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, এ ঘটনার ফলে একটি চুল্লিকে সাময়িকভাবে জরুরি ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ড্রোন হামলার ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক স্থাপনার জন্য হুমকি হয়, এমন কোনও সামরিক তৎপরতা গ্রহণযোগ্য নয়।












