জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রংপুরে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদকে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ গতকাল রোববার তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। খবর বিডিনিউজের।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, উনি (হাসিবুর রশীদ) দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ গত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে।
ট্রাইব্যুনাল–২ ওনাকে সাজা পরোয়ানামূলে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করেছেন। আজ থেকেই তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে সাজা ভোগ করবেন। এদিন হাসিবুর রশীদকে আদালতে হাজির করার পর তার আইনজীবী ওকালতনামা দাখিলের অনুমতি চাইলে ট্রাইব্যুনাল বিধি অনুযায়ী তা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য পলাতক ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ওই হত্যার ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল–২। আলোচিত ওই রায়ে ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় আদালত। এর মধ্যে প্রধান আসামি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর দণ্ডিত সাবেক এই উপাচার্য আপিলের সুযোগ পাবেন জানিয়ে প্রসিকিউটর ফারুক বলেন, আমাদের রায় ‘প্রোনাউন্স’ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সার্টিফাইড কপি এখনও পাওয়া যায়নি। জাজমেন্ট পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে উনি আপিল করতে পারবেন। এই প্রসিকিউটর বলেন, যেহেতু এটি ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের (সর্বোচ্চ শাস্তির) মামলা ছিল, তাই তার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি নিজে উপস্থিত থাকলে নিজস্ব আইনজীবী দিয়ে আরও ‘কনটেস্ট’ করতে পারতেন। ‘স্টেট ডিফেন্স’ থাকলে রেকর্ডের বাইরে জেরা করার সুযোগ থাকে না। উচ্চ আদালতে আপিল করা হলেও সাবেক এই উপাচার্যের সাজা বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় দীর্ঘ দিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। স্থানীয় লোকজন তাকে সেখানে আটকে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। রোববার তাকে কারাগারে পাঠাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।













