ভারতের রপ্তানি নিষিদ্ধের খবরে চিনির দাম বাড়ল খাতুনগঞ্জে

মণপ্রতি বেড়েছে ৭০ টাকা, আগের আমদানি করা চিনি এখন বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ

জাহেদুল কবির | সোমবার , ১৮ মে, ২০২৬ at ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

ভারত থেকে চিনির রপ্তানি বন্ধের জেরে বাড়ছে চিনির দাম। এর আগে ইরান যুদ্ধের অজুহাতে কয়েক দফায় চিনির দাম বৃদ্ধি করেন ব্যবসায়ীরা। অথচ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চিনি পরিবহন তেমন হয় না বললেই চলে। এখন আবার যুক্ত হয়েছে ভারত চিনি রপ্তানি বন্ধের ইস্যু। এই ইস্যুকে পুঁজি করে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণে (৩৭.৩২ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ৭০ টাকা পর্যন্ত। ভোক্তারা বলছেন, ভারত নিজেদের বাজার ঠিক রাখতে চিনির রপ্তানি বন্ধ করেছে। তবে আমাদের ব্যবসায়ীদের কাছে বর্তমানে যেসব চিনি রয়েছে সেগুলো তো আগে আমদানি করা। তাহলে এই মুহূর্তে চিনির দাম বাড়ার তো কারণ নাই। এখানে কাজ করছে আওয়ামী লীগ আমলের সেই পুরনো চিনির মিল সিন্ডিকেট। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চিনির বাজারে আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়ার পরে ঊর্ধ্বমুখী চিনির দাম এক পর্যায়ে একশত টাকার নিচে নেমে আসে। সে সময় অনেক ছোট আমদানিকারকরাও চিনি আমদানি করেন। এক পর্যায়ে দেশি চিনির মিল মালিকরা আমদানি মূল্যের চেয়েও কম দামে চিনি বিক্রি করে ছোট আমদানিকারকদের লোকসান দিতে বাধ্য করেন। লোকসান দিয়ে তারা চিনির বাজারে টিকতে না পেরে আমদানি বন্ধ করে দেন। এখন চিনির বাজার নিজেদের মতো নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য বিভিন্ন অজুহাতে দাম বৃদ্ধি করে যাচ্ছেন তারা। গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে মণপ্রতি (৩৭.৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫৫০ টাকায়। বর্তমানে সেই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬১৫ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ’। চিনি কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই স্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজারে আসার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও বিক্রি করে। যে দরে ডিও বিক্রি হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্য ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যের তুলনায় ডিও বিক্রিও হয় বেশি। এর ফলেও কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, চিনির বাজারে আসলে সিন্ডিকেট বলে তেমন কিছু নাই। খাতুনগঞ্জে যে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সিন্ডিকেট কারসাজির অভিযোগ উঠে। আসলে শুধু চিনি নয়, ভোগ্যপণ্যের দাম উঠানামা করে চাহিদা ও যোগানের ওপর।

উল্লেখ্য, নিজ দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে চিনি রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ভারত সরকার। গত বুধবার বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বৈদেশিক বাণিজ্য মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে এই নির্দেশ জারি করা নির্দেশনায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাঁচা, সাদা ও পরিশোধিতসব ধরনের চিনি রপ্তানি ‘নিষিদ্ধ’ ক্যাটাগরিতে থাকার কথা জানানো হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআরব আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা
পরবর্তী নিবন্ধগণমাধ্যম কমিশন গঠনে পরামর্শক কমিটি করার সিদ্ধান্ত