চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা চায়না ইকোনমিক জোন প্রকল্পে আবারও আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী জুনের মধ্যেই প্রকল্পটির ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এর ফলে প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা এই অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের স্বপ্নদোয়ার খুলে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে ৭৮৪ একর জমির ওপর প্রস্তাবিত এই শিল্পাঞ্চলে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এখানে ৫৩ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। চায়না শিল্পজোনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. শাহেদ জানান, চায়না ইকোনোমিক জোন প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে ৭/৮টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আগামী জুন মাসে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের সঙ্গে এ জোনের জমির ডেভেলপার অ্যাগ্রিমেন্ট সইয়ের কাজ চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো সম্পন্ন হলে মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে ইনশাল্লাহ। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তারই অংশ হিসেবে কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরের আনোয়ারার চায়না ইকোনোমিক জোন প্রকল্পটি চালু করার জন্য বেজা কাজ করে যাচ্ছে। ৭৮৪ একর জমির ওপর প্রস্তাবিত চায়না শিল্পজোনে ৫৩ হাজার থেকে দুই লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পে ২০ হাজার কোটির বেশি বিনিয়োগ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে আনোয়ারায় বিদেশি শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে এ প্রকল্প বড় ভূমিকা পালন করবে। জানা গেছে, ২০১৬ সালে কর্ণফুলী টানেল সড়কের কালাবিবির দীঘি মোড়ের কাছে যখন প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় তখন এ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। টানেল সড়ক থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরত্বে ব্রিক সলিনের ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়কটি চলে গেছে প্রকল্পের গেট পর্যন্ত। চুক্তির প্রথম তিন বছরে প্রকল্প এলাকার ২শ একর পাহাড়ি টিলার মাটি সমান করা হয়। বৈরাগ থেকে ইকোনমিক জোন পর্যন্ত চারলেনের এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। এছাড়া প্রকল্পের বৈরাগ অংশে প্রায় এক কিলোমিটারের সীমানা প্রাচীর রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় একটি অফিস নির্মাণ করা ছাড়া বিগত ১০ বছরে কাজের আর কোন অগ্রগতি চোখে পড়েনি। অরক্ষিত প্রকল্পে চুরির অভিযোগ চলতি মাসে শিল্পজোনের প্রধান ফটক নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে স্থানীয়দের একটি অংশের বিক্ষোভের মুখে বর্তমানে ফটক নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। শুধু তাই নয় অরক্ষিত প্রকল্পের ভেতর দুষ্কৃতকারীরা বানিয়েছে নানান অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকান্ডের আস্তানা। প্রকল্পের মালামালও চুরির ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এক দশকের অপেক্ষা ২০১৬ সালে কর্ণফুলী টানেল সড়কের কালাবিবির দীঘি মোড়সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়। সে সময় এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্প ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তবে নানা জটিলতায় গত ১০ বছরে প্রকল্পটি বাস্তব অগ্রগতি পায়নি।
প্রকল্প এলাকায় প্রথম তিন বছরে প্রায় ২০০ একর পাহাড়ি টিলার মাটি সমান করা হয়। বৈরাগ এলাকা থেকে জোন পর্যন্ত চার লেনের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। এছাড়া সীমানা প্রাচীর ও একটি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে এরপর বড় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলছেন, কর্ণফুলী টানেল চালুর পর আনোয়ারায় শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়েছে। তাঁদের মতে, চায়না ইকোনমিক জোন বাস্তবায়িত হলে আনোয়ারা বিদেশি বিনিয়োগের বড় কেন্দ্র হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামে আবাসন, ব্যবসা, পরিবহন ও সেবাখাতেও নতুন গতি আসবে।













