অর্থনীতি সক্রিয় করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা

এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা বন্ধ কারখানার জন্য ব্যাংক খাত থেকে চুরি হওয়া পুরো টাকাই পাচার : গভর্নর

আজাদী ডেস্ক | রবিবার , ২৪ মে, ২০২৬ at ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ

বন্ধ কারখানা চালু ও অর্থনীতি সক্রিয় করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এই ঋণ প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকার ‘রিফাইন্যান্স’ (পুনঃঅর্থায়ন) তহবিল গঠন করা হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকে থাকা অতিরিক্ত তারল্য থেকে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম মিলনায়তনে ঋণ প্যাকেজের নানা দিক তুলে ধরেন গভর্নর। তিনি বলেন, ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা অর্থনীতি সক্রিয় করতে ব্যয় হবে। ২০ হাজার কোটি টাকা থাকবে বন্ধ কারখানার জন্য। ঋণের ৪১ হাজার কোটি টাকার গ্যারান্টার থাকবে সরকার। ঋণ প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে সারা দেশে ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান হবে বলে আশা গভর্নরের। ঋণের সুদহার, বিস্তারিত বর্ণনা ও শর্ত তুলে ধরে শনিবারই সার্কুলার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, দেশের ব্যাংক খাত থেকে ৫ লাখ চুরি হয়েছে এবং এই টাকার পুরোটাই পাচার হয়ে গেছে। খবর বিডিনিউজের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া লিখিত সার সংক্ষেপের তথ্য অনুযায়ী, ঋণের ৬০ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দিতে হবে ব্যাংকগুলোকে। পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিলের ঋণ যাবে বন্ধ কারখানা ও সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমইতে ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ১০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা ও উত্তরবঙ্গে কৃষি অর্থায়নে।

অন্যদিকে ১৯ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে ঋণ যাবে প্রিশিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, কটেজ ও মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, চামড়াজাত পণ্য ও জুতা রপ্তানি খাতে ২ হাজার কোটি টাকা, যুব কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনীতি খাতে ১ হাজার কোটি টাকা, হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি খাতে ২ হাজার কোটি টাকা, সবুজ অর্থায়নে ১ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা, স্টার্টআপ ৫০০ কোটি টাকা ও উদ্ভাবনী অর্থনীতিতে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ব্যাংক খাত থেকে চুরি হওয়া পুরো টাকাই পাচার : একই অনুষ্ঠানে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের ব্যাংক খাত থেকে ৫ লাখ চুরি হয়েছে এবং এই টাকার পুরোটাই পাচার হয়ে গেছে। আমরা এমন পরিস্থিতিতে আসছি, যখন ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে। ব্যাংকিং সিস্টেমের এক তৃতীয়াংশ টাকাই নাই, যেটাকে আমরা সফিসটিকেটেডভাবে খেলাপি ঋণ বলছি। এর অংশ চুরি হয়ে গেছে, এর বিপরীতে কোনো জামানত নাই।

খেলাপি ঋণ কমাতে ‘অ্যাসেট রিকোভারি নিয়ে কাজ করছি’ মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, যে ১০০ টাকা নিয়েছে, তার কাছে কিন্তু একশত টাকা নাই। আমরা এখন কাজ করছি এই টাকা কীভাবে আদায় করা যায়। বড় অংকের ঋণ দেওয়ার আগে একক গ্রাহক ঋণ সীমা বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করতে ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে বিশাল অংকের ঋণ সুবিধা বাড়ালে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কি না, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, একক ঋণগ্রহীতার ‘এক্সপোজারটা’ কোথায় তা আপনারা জানেন। সম্প্রতি আমাদের কারেন্সি ডিপ্রেসিট করে (বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা টাকার মান কমে যাওয়া) ৪০ শতাংশের মতো। আমদানি করা কাঁচামালের দর বেড়ে গেছে। এতে গ্রহীতার ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে। এ কারণে আমাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে, তার (গ্রাহকের) সীমা বাড়ানো দরকার। এর মানে এই না যে, ব্যাংক ঋণ দিয়ে দেবে। আমরা প্রত্যাশা করি, ব্যাংক ভালো গ্রাহককে দেবে। এই ঋণে সরকার ৬ শতাংশ হারে সুদ ভর্তুকি দেবে। এখানে অতিরিক্ত কোনো টাকা ছাপানো হবে না। এটা ব্যাংকিং খাতের টাকা, ব্যাংক থেকেই দেওয়া হবে। কিছু ব্যাংকের অতিরিক্তি তারল্য আছে, তা ঋণ দিয়ে আবার ব্যাংকে ফিরিয়ে আনা হবে।

বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি এখন ৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এখন ঋণ প্যাকেজ না দেওয়া ছাড়া উপায় নেই বলে মনে করেন গভর্নর। গত ফেব্রুয়ারিতে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন মোস্তাকুর রহমান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম পূর্ণ প্যানেলে জয়ী
পরবর্তী নিবন্ধঅপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি