৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ, প্রস্তুত ফিশিং ট্রলার

সাগরে মাছ ধরা শুরু হবে রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বর্ষা শুরু হওয়ায় জেলেদের মাঝে রয়েছে শঙ্কা

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ১১ জুন, ২০২৬ at ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ ৫৮ দিনে নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও গভীর সাগরে মাছ ধরার জন্য যাবে ট্রলারগুলো। নদী ও সাগরে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মৎস্য অধিদপ্তর বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতেই ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সময় শেষ হচ্ছে আজ রাত ১২টায়। নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সাগরে মাছ ধরার উৎসবে সামিল হবেন জেলেরা।

এ উপলক্ষে নগরের কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন ফিশারীঘাটসহ উপকূলজুড়ে ফিশিং ট্রলারগুলো নিয়ে সাগরে যাওয়ার জন্য শত শত জেলেরা শেষ মুহূর্তের সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে।

গতকাল নগরীর ফিশারীঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফিশারীঘাট এলাকায় নোঙর করা ফিশিং ট্রলারগুলোতে জেলেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি ট্রলারে জেলেরা কেউ খাবার সামগ্রীচালডালতেল তুলছেন, কেউ ড্রাম ভর্তি খাবার পানি তুলছেন, কেউ দলবদ্ধ ভাবে মাছ ধরার জাল ও রশি তুলছেন। অনেকেই ড্রাম ভর্তি ইঞ্জিনের জ্বালানি তেল, বরফ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দীর্ঘ বিরতির পর সাগরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক শ্রীনিবাস চন্দ্র চন্দ জানান, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সাগরে ৫৮ দিন সকল ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ১১ জুন রাত ১২টায়। ১২টা ১মিনিট থেকে সাগরে মাছ ধরাতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে সাগরে মাছের উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি জেলেরা লাভবান হবেন। দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে।

ফিশিং ট্রলার মালিক আবুল হাসান জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও এখন বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। জুনজুলাই মাসে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় সাগর সাধারণত উত্তাল থাকে এবং ঝড়বৃষ্টির ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনিতেই জ্বালানি তেল, বরফের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এতো টাকা ব্যয় করে সাগরে গিয়ে মাছ ধরতে না পারলে লোকসান আরও বেড়ে যাবে।

ট্রলার নিয়ে সাগারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া ট্রলারের মাঝি শফিকুল ইসলাম জানান, সাগরে মাছ ধরার উপর আমাদের জীবিকা চলে। ছেলে মেয়ের লেখাপড়া থেকে শুরু করে সব কিছু। সাগরে মাছ ধরতে পারলে জীবন ঠিক ঠাক মত কোন রকমে চলে। মাছ না পেলে ধার দেনা করে চলতে হয়। ৫৮ দিন বন্ধ থাকায় আমাদের পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন বর্ষা শুরু হয়েছে। হঠাৎ যে কোনো সময় সাগর উত্তাল হয়ে উঠে। তারপরও জীবনে জন্য ছুটে যেতে হচ্ছে। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে আরো ৬ শিশুর হাম শনাক্ত
পরবর্তী নিবন্ধ‘রোনালদো ফুটবল খেলাকে বদলে দিয়েছেন’