চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) গত দুই বছরের ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে। মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল ইসলামকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও পূর্বের উপাচার্যকে বহাল রাখার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও আন্দোলন শুরু করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে গতকাল সোমবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে চুয়েট আইন, ২০০৩–এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে চার বছরের জন্য এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চুয়েটের দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থানকালে গণমাধ্যমের মাধ্যমে নিজের অপসারণের বিষয়টি জানতে পারেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। গত ২৭ জুলাই তাকে চার বছরের জন্য চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর চুয়েটের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন অধ্যাপক মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন আবু সাদাত। ২১ সেপ্টেম্বরের এই পরিবর্তনের ফলে দুই বছরেরও কম সময়ে তিনবার শীর্ষ পদটি বদল হলো চুয়েটে।

নিয়োগ পাওয়া নতুন উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল ইসলাম এর আগে কুয়েটের উপ–উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত এপ্রিল মাসে কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন ও অনশনের মুখে তৎকালীন উপাচার্য ও উপ–উপাচার্যকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই পটপরিবর্তনের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেলেন।
হঠাৎ করে উপাচার্য পরিবর্তনের খবরে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











