চট্টগ্রাম–রাঙ্গামাটি চার লেন সড়কের রাউজান জলিলনগর এলাকায় অবৈধ পার্কিং গড়ে ওঠেছে। সড়কের দুপাশে দুই লেন দখল করে রাখা হচ্ছে বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। এসব অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে ব্যস্ততম সড়কটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া সারাক্ষণ লেগে থাকে যানজট।
সরেজমিনে দেখা যায়, চার লেইন সড়কটির উভয় পাশের দুই লেন দখল করে রেখেছে পার্কিং করে রাখা বাস ট্রাকসহ জিপ গাড়ি। এমন দৃশ্য সড়কটির জলিলনগর এলাকার আধা কিলোমিটার জুড়ে। স্থানীয় জনসাধারণ ও পথচারীদের অভিযোগ সড়ক পাশে রয়েছে বিশাল বাস টার্মিনাল। খালি বাস টার্মিনালের ভিতর না রেখে মালিক শ্রমিকরা এসব গাড়ি রাতদিন পার্কিং করে রাখছে সড়কের উপর। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ব্যস্ততম এই সড়কে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই বলেছেন অবৈধভাবে বাস পার্কিং করে রাখা হয়, সড়কের পাশে থাকা মডেল মসজিদের প্রবেশমুখেও। পার্কিং এ থাকা বাসের কারণে মুসল্লিগণের মসজিদে নামাজে যাওয়া আসার ব্যঘাত ঘটে।
এলাকার সচেতন ব্যক্তিবর্গের অভিমত, চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম–রাঙ্গামাটি সড়কটি অন্যতম ব্যবস্ততম সড়ক। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথে প্রতিদিন পাবর্ত্য জেলা রাঙ্গামাটি ও মানিকছড়িতে যাওয়া আসায় থাকেন দেশি বিদেশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। প্রতিনিয়ত চলাচলে থাকে সেনাবাহিনীর ছোট বড় কনভয়, বহু সংখ্যক নানা শ্রেণির ছোট বড় পরিবহন। সূত্র মতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক পথের জলিলনগরে সকাল সন্ধ্যা যানজট ও দুর্ঘটনা লেগে থাকলেও–এই নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যাথা দেখা যায় না। খবর নিয়ে জানা যায়, এই সড়কের নিরাপত্তা ও শৃংঙ্খলা রক্ষায় রাউজানে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে হাইওয়ে থানা। স্থানীয়দের জনসাধারণের অভিযোগ–সড়কের সবচেয়ে যানজট ও ঝুঁকিপূর্ণ জলিলনগর এলাকার সবসময় অরক্ষিত অবস্থা বিরাজমান থাকলেও হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা এলাকায় কোনো সময় মানুষ দেখেনি।
সড়ক পথ দখল করে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করা প্রসঙ্গে কথা বললে চট্টগ্রাম–রাঙ্গামাটি বাস মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ হোসেন বলেন আমরা চালকদের সব সময় নিষেধ করে আসছি যাতে সড়কের উপর খালি বাস পার্কিং না করে। কিছুচালক শ্রমিকের কারণে এই নিয়ম লঙ্গিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন ওই এলাকায় বাস পার্কিয়য়ের চাইতে ট্রাক ও জিপ গাড়ি পাকিং করা হয় বেশি। প্রশাসন উদ্যোগী হলে সড়কপথ মুক্ত রাখা সম্ভব।
ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মোহম্মদ ইব্রাহিম সড়কের উপর অবৈধ ভাবে পার্কিং করার কথা স্বীকার করে বলেন–তিনিও চান ব্যস্ততম এই সড়কপথটি যানজট ও ঝুঁকিমুক্ত হোক। তার অভিমত–এই পদক্ষেপ নিতে হবে হাইওয়ে পুলিশকে। এ বিষয়ে জানতে মুঠো ফোনে কথা বললে রাউজান হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ এসআই শাহজাহান বলেন আমরা জলিলনগরে অবৈধ পার্কিং ঠেকাতে দুইজন পুলিশ দিয়েছি। পুলিশ অবৈধ পার্কিং থেকে গাড়িগুলো সরিয়ে দিলেও তারা আবারও নিয়ে আসে সড়কের উপর। এই অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা এই পর্যন্ত নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।









