১৩ মাস পর টেকনাফ স্থলবন্দর সচল

ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি

শাহেদ মিজান, কক্সবাজার | শনিবার , ৯ মে, ২০২৬ at ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ

এক বছরের বেশি সময় পর অবশেষে টেকনাফ স্থলবন্দর সচল হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফিরেছে। একই সাথে বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিকসহ অন্যান্য লোকজনের মাঝেও ফিরেছে স্বস্তি। গত ১ মে মিয়ানমারের মংডু থেকে কাঠবাহী একটি ট্রলার টেকনাফে আসার মাধ্যমে ১৩ মাস পর সীমান্ত বাণিজ্য সচল হয়। ওইদিন বোটে করে টেকনাফ স্থলবন্দরে ৯৬৩ পিস চম্পাফুল ও গর্জন কাঠ আমদানি করা হয়েছিল। এরপর ক্রমান্বয়ে আমদানিরপ্তানি চলছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার গেছে আলুবাহী ট্রলার।

টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা মাহবুব রহমান জানান, কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে ৬৫ মেট্রিক টন আলু মিয়ানমারে রপ্তানি হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকার এক বছর পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে নিত্যপণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। এছাড়া ক্রমান্বয়ে অন্যান্য পণ্যও আমদানিরপ্তানি হবে। টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১৩ মাস বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মজুদ করা কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছিল তখন। এরপর থেকে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ে।

স্থলবন্দরের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ওমর ফারুক বলেন, সরকারের সহযোগিতায় দীর্ঘ এক বছর পর আবারও সীমান্ত বাণিজ্য শুরু হয়েছে। আমরা অনেক খুশি হয়েছি। তবে পুরোপুরি কার্যক্রম চালু করতে ব্যাংকিং জটিলতা দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, স্থলবন্দর বন্ধ থাকা বড় ধরনের ব্যর্থতা। অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যবসায়ীরা নানা চেষ্টা তদবির করেও কোনো সুরাহা পায়নি। বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আবারো দাবি তোলা হলে সরকারের টনক নড়ে। এর অংশ হিসেবে গত ১৩ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ৬ এপ্রিল নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বন্দর পরিদর্শন করেন। মন্ত্রীদ্বয় পরিদর্শনকালে স্থলবন্দরের অচলাবস্থা কাটিয়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক স্থলবন্দর চালু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অনেক খুশি।

টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, টেকনাফ বন্দর দিয়ে মিয়ানমারে আলু রপ্তানির জন্য শ্রমিকরা ট্রলারে আলু তুলছেন। ধীরে ধীরে সীমান্ত বাণিজ্য পুরোদমে চালু হবে এবং আমদানিরপ্তানি কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পাবে।

এই স্থলবন্দর বন্ধ থাকা নিয়ে সবসময় সোচ্চার ছিলেন উখিয়াটেকনাফ আসনের সাংসদ ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। তিনি প্রায়ই বিভিন্ন মিটিংয়ে এই বিষয়ে কথা বলতেন। এ ব্যাপারে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর শুধু টেকনাফের অর্থনীতি নয়, পুরো দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায় অবদান রাখে। এই বন্দরটি বন্ধ থাকায় একটা বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই কারণে আমি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলেছি। সে মতে অবশেষে বন্দরটি চালু হল। আশা করছি, আবারো আমদানিরপ্তানিতে মেতে উঠবে এই বন্দর।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশমিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য ১৯৯৫ সালে শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ৫ নভেম্বর ২৭ একর জমির ওপর টেকনাফ স্থলবন্দরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আমদানিরপ্তানি কার্যক্রম চালু করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশুভেন্দুই পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী, শপথ আজ
পরবর্তী নিবন্ধপ্রথম দিন বাংলাদেশের