রবীন্দ্রনাথ আজও অনুপ্রেরণা জোগায় জন্মজয়ন্তীতে নানা আয়োজন

আজাদী ডেস্ক | শনিবার , ৯ মে, ২০২৬ at ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীর আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাসাহিত্যের সব শাখায় অবাধে বিচরণ করেছেন কবিগুরু। তাঁর সাহিত্যকর্ম আজও অনুপ্রেরণা জোগায়। সারা দেশের ন্যায় গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামেও নানা আয়োজনে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসন : জেলা প্রশাসন এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামের আয়োজনে গতকাল শুক্রবার একাডেমি মিলনায়তনে ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ‘শান্তি ও মানবতার কবি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই প্রতিপাদ্য কথামালা পর্বে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দীন। সভায় বক্তারা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত গান, কবিতা, ছোটগল্প, নাটক, কাব্যগ্রন্থ, প্রবন্ধ ইত্যাদি সাহিত্যকর্ম চর্চার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে আত্মমর্যদায় প্রতিষ্ঠিত স্বনির্ভর জাতি গঠনে সৃজনশীল ও মানবীয় গুণাবলি সম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা আবৃত্তি শিল্পী ফারুক তাহেরের সঞ্চলনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গানে সমবেত সঙ্গীত পরিবেশনা করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীতদল, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, গীতধ্বনি সঙ্গীত অংগন। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি নৃত্যদল, বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থা, চট্টগ্রাম। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশনা করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি আবৃত্তি দল। প্রমা অবন্তীর পরিচালনায় ওড়িসী অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতিনাট্য চন্ডালিকা অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষ্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আবৃত্তি ও রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, চট্টগ্রাম : থিয়েটার ইনস্টিটিউটের গ্যালারি হলে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। আয়োজন করে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শাখা। ‘হে নূতন দেখা দিক আরবার’এই স্লোগানকে সামনে রেখে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। উদ্বোধনী সংগীত হিসেবে পরিবেশিত হয় ‘হে নূতন দেখা’ এবং ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’। এরপর সংস্থার শিল্পীদের একক ও দ্বৈত রবীন্দ্রসংগীতের মূর্ছনায় হলভর্তি দর্শক মুগ্ধ হন। সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করেন জাকিয়া তাসনিম লিপি, শ্যামলী বড়ুয়া, অন্তরা দাশ, রুমা মিত্র, বনানী শেখর রুদ্র, অগ্নিলা দিয়া, ঋতু দত্ত, সায়ন্তী ভট্টাচার্য, শেলী মল্লিক, পৃথ্বীশ ভট্টাচার্য, অনিমেষ বড়ুয়া, মনি আচার্য, মিশকাতুল মমতাজ মুমু, মো. মহিউদ্দিন ও বহ্নিশিখা রক্ষিত (দ্বৈত), সীমা পাল, মশিউল আনোয়ার খান, অর্পিতা দাশ, রুমি চক্রবর্তী, শ্যামলী পাল, প্রণব সিকদার, লাকী দাশ, সনজিতা ভট্টাচার্য্য ও অ্যাডভোকেট শুভাগত চৌধুরীর গান।

যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতা করেন কিবোর্ডএ রিপন শীল, তবলায় রোমেন বিশ্বাস রাজু, অক্টোপ্যাডে নন্দন নন্দী, বেহালায় শ্যামল চন্দ্র দাস এবং অ্যাকুস্টিক গিটারে মলয় কুমার ইন্দু মুকেশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মিশকাতুল মমতাজ মুমু ও পরিচালনা করেন বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শুভাগত চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, সংস্থার সভাপতি লাকী দাশ।

ক্বণন শুদ্ধতম আবৃত্তি অঙ্গন : যারা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিব্রাজক, যারা বাংলা ভাষায় শিল্পসাহিত্যের চর্চা করেন, রবীন্দ্রনাথের কাছে তাদের অসীম ঋণ। গভীরতর বোধ আর দেশপ্রেম নিয়ে যদি শুধু জাতীয় সংগীতের কথাই ভাবি রবীন্দ্রনাথের কাছে আমাদের ঋণের পরিমাপ করা যাবেনা। রবীন্দ্রনাথ এক অনিবার্য ব্যক্তিত্বের নাম। তাঁকে অধ্যয়ন করে শেষ করা যাবেনা। রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ অহংকার। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার চেরাগী পাহাড়স্থ আজাদী মিলনায়তনে ক্বণন শুদ্ধতম আবৃত্তি অঙ্গন আয়োজিত ‘তোমার আখরগুলি’ শীর্ষক রবীন্দ্ররচনার আবৃত্তি অনুষ্ঠানে কথামালা পর্বে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তব্য দেন, আবৃত্তি শিল্পের শিক্ষক ক্বণন সভাপতি মোসতাক খন্দকার, ক্বণন কার্যকরী পরিষদ সদস্য আবৃত্তি শিল্পী সৌভিক চৌধুরী ও ভাটিয়ারি ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের বাংলার শিক্ষক শুভ্রা চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ক্বণন সদস্য আবৃত্তি শিল্পী শাহ মো. আর রাইয়ান।

আবৃত্তি, গান আর কথামালা দিয়ে সাজানো এই রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশনায় ছিল ক্বণন সদস্য সৌভিক চৌধুরী, প্রেমা চৌধুরী, মুনয়িম আসরা, মহিউদ্দিন মারুফ, কানিজ ফাতেমা নূরি, ফাহিমা, জারিয়া, মেহজাবিন, নওশিন, রেঁনেসা, আসলিরাফ, সমৃদ্ধ, মুনতাহা, রুজাইনা, অর্দ্রি, তোহফা, রিদওয়ান ও আহনাফ এবং রবীন্দ্রনাথের গান আর গানের কথার আবৃত্তির দ্বৈত পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন আবৃত্তি শিল্পের শিক্ষক মোসতাক খন্দকার ও সংগীত শিল্পী প্রেমা চৌধুরী। রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন ক্বণন সদস্য শুভ্রা চক্রবর্তী। আবৃত্তি শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এবং বিশ্বকবিকে নিবেদিত ২৮টি কবিতা স্বরায়নের বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকশ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন।

অভ্যুদয় সঙ্গীত অঙ্গন : প্রেম, ভালোবাসা, বিরহ, বেদনার নানা গানে গানে কবিগুরু রীবন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন করলো অভ্যুদয় সঙ্গীত অঙ্গন। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার দেওয়ানজী পুকুর পাড়ের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আহা, তোমার সংগে প্রাণের খেলা’ শীর্ষক গীতি আলেখ্য। কবিগুরুর একগুচ্ছ গান নিয়ে ‘কবি প্রণাম’ নামে এই সংগীতায়োজনটি করা হয়। সংগীত পরিচালনা করেন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী শ্রেয়সী রায়। শুরুতে সাদা পোশাকে সজ্জ্বিত একঝাঁক শিশ জন্মজয়ন্তীর দুয়ার খুলে দিল। শিশুশিল্পীদের কণ্ঠে আরও শোভা পায়, ‘হে সখা মম হৃদয়ে রহো’পূজা পর্যায়ের গানটি। এরপর ‘তোমায় গান শোনাব ওগো দুঃখ জাগানিয়া ‘সমস্বরে গানটির মধ্য দিয়ে বড়দের পরিবেশনা শুরু হয়। পরে ঊর্বসীর কণ্ঠে ‘দিবস রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি’ বা শর্মিলা ব্যনার্জির ‘অলি বার বার ফিরে যায়’ কিংবা প্রিয়ন্তীর ‘ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে’ গানের মধ্য দিয়ে বৈশাখী সকালে প্রেমের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া পান্না দাশ গেয়েছেনে ‘ফিরে যাও কেন’ গানটি। ‘যা ছিল কালো ধলো তোমার রঙে রাঙা হলো’ গানে বিদায়ী বসন্তকে মনে করিয়ে দিলেন ঝুলন। কামনাশীষের ‘আরো আরো প্রভু,’ এলড্রিনের কণ্ঠে ‘আমার জীবন পাত্র ‘আর ডালিয়া বড়ুয়ার ‘এ পথ গেছে’ গানগুলো ভালো লেগেছে। শ্রেয়সী রায়ের ‘দেখো সখা’ এবং আদৃতা রুদ্রের ‘আহা তোমার সংগে প্রাণের খেলা’ গান দুটিতে মুগ্ধতা ছড়ায়। একক গানের মাঝে মাঝে ছিল সমবেত সংগীত। শেষে ‘ওরা সুখের লাগি চাহে প্রেম’ সমবেত গানের মধ্য দিয়ে গীতি আলেখ্যের পর্দা নামে।

তারুণ্যের উচ্ছ্বাস : রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের আয়োজনে গতকাল শুক্রবার থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয় নান্দনিক আয়োজনে রবীন্দ্রজয়ন্তী।

আবৃত্তি, সংগীত, গীতাঞ্জলি থেকে পাঠ, নৃত্য ও শিশুদের অংশগ্রহণে সাজানো অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক প্রাণময় সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে। তারুণ্যের উচ্ছ্বাস সভাপতি ভাগ্যধন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে কথামালায় অংশ নেন, আবৃত্তিশিল্পী অঞ্চল চৌধুরী, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস সহ সভাপতি নাহিদুজ্জামান নাহিদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটু তলাপাত্র মিঠু।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত ও আবৃত্তি। পরে একে একে আবৃত্তি পরিবেশন করেন মো. মুজাহিদুল ইসলাম, শ্রাবণী দাশগুপ্তা, ইভা চৌধুরী, গার্গী দেব, সুস্মিতা দত্ত, সাফা মারওয়া, সুমি বিশ্বাস, শারমিন মুস্তারী নাজু, রত্না চৌধুরী, মৌসুমী দে ও রাজেশ্বরী চৌধুরী। সংগীত পরিবেশন করেন বৈশাখী নাথ, আনিকা চৌধুরী, পিয়া চৌধুরী, সেঁজুতি দে, স্বপ্নিল বড়ুয়া, অনামিকা দাশ, আল তুষি, শ্রীনন্দা মিশেল, পূর্ণিমা লালা, দ্বিপান্বীতা আইচ কথা ও উপল বণিক দে।

অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ পর্ব ছিল ‘গীতাঞ্জলি’ থেকে পাঠ। এ পর্বে অংশ নেন মো. মুফরাত হোসেন, মেরিনা সুলতানা, পিংকি কর, চিংকু রানী শীল, অঝর চৌধুরী, সৌমেন দাশ, দেবদীপ কান্তি দাশ, সঙ্গীতা দেবী ও প্রজ্ঞা লাবনী চৌধুরী।

ছোটদের পরিবেশনায় ‘বর্ষামঙ্গল’ শিরোনামের আবৃত্তি অনুষ্ঠানটিকে দেয় ভিন্নমাত্রা। এছাড়া নৃত্য পরিবেশন করেন রুহানিকা চৌধুরী গুঞ্জন ও প্রযুক্তা নাথ। নৃত্যের ছন্দ ও রবীন্দ্রসংগীতের মেলবন্ধন দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কারিশমা কবির ঐশী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম এপ্রিলে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ : এফএও
পরবর্তী নিবন্ধহরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা