আধুনিক নগরায়নের পথে কক্সবাজারের পেকুয়া। পৌরসভা গঠনের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে পেকুয়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ও নাগরিক দাবির অবসান ঘটিয়ে সরকার পেকুয়া পৌরসভা গঠনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গত বুধবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯–এর ধারা ৩ অনুযায়ী সরকারের ক্ষমতাবলে গেল ২৪ মার্চ পেকুয়াকে পৌরসভা ঘোষণার প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো যৌক্তিক আপত্তি না থাকায় পেকুয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে পৌরসভা হিসেবে চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত গেজেটের তফসিলে উল্লেখ করা হয়, ৪ নং পেকুয়া ইউনিয়নের দুটি বৃহৎ মৌজা পেকুয়া ও মেহেরনামা অংশ বিশেষ এই পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পেকুয়া মৌজা (জেএল নং–০৮), যেখানে দাগ নং ১ থেকে ১২২০৮ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা পৌরসভার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি মেহেরনামা মৌজার দাগ নং ১ থেকে ৪০৩৭ পর্যন্ত এলাকাও পৌরসভার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এই ঘোষণার ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো গ্রামীণ প্রশাসনিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন নগরী ব্যবস্থার অধীনে মিউনিসিপ্যালিটির মর্যাদা পাবে। পৌরসভা গঠনের মাধ্যমে পেকুয়া সদরে পরিকল্পিত রাস্তাঘাট, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্ট্রিট লাইটসহ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ২৩ মার্চ সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নিরন্তন প্রচেষ্টায় সরকারের পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত নিকার সভায় পেকুয়া উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত অনুমোদন হয়। ২০০২ সালের ২৩ এপ্রিল পেকুয়া উপজেলার ঘোষণা মুদ্রিত হয় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে। ২৭ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পেকুয়া কলেজ মাঠে বিশাল জনসমাবেশে এ উপজেলাটি উদ্বোধন করে প্রশাসনিক যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ দুই যুগ পর পেকুয়া উপজেলাবাসী একটি পৌরসভা পেতে যাচ্ছে।












