১১ অক্টোবর থেকে হবে মহানগর আ. লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্মেলন

বহাল থাকবেন আগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাই ‘নওফেল-নাছিরের মধ্যে সমঝোতা’

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১ অক্টোবর, ২০২২ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

দুর্গাপূজা ও ঈদ-এ-মিল্লাদুন্নবীর পর ১১ অক্টোবর থেকেই চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ এমপি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপির উপস্থিতিতে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন উপরোক্ত সিদ্ধান্তগুলো উপস্থাপন করেন। সভার শুরুতেই আ জ ম নাছির উদ্দীন নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ড নিয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত সমূহ পড়ে শোনান। এই ৪৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে যে সব ওয়ার্ডে কোন ধরনের সদস্যা নেই সে সব ওয়ার্ডে সম্মেলনের জন্য পরবর্তী সভায় তারিখ নির্ধারিত হবে এবং ১১ তারিখ থেকে সম্মেলন শুরু হবে। আর কোন কোন ওয়ার্ডে সদস্যা আছে সে সব ওয়ার্ডের নামও তিনি উল্লেখ করেন। এ সব ওয়ার্ডে অধিকতর আলোচনা সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় নির্দেশে পরবর্তীতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ভাইয়ের ঢাকা হুইপের অফিসে আমার সাথে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বৈঠক হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে নগরীর ১ থেকে ৪৩ পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে আগের যারা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আছেন এবং যেসব ওয়ার্ডে আহ্বায়ক আছেন (যারা শারীরিক ভাবে সুস্থ আছেন) তারা বহাল থাকবেন। এই ব্যাপারে আমরা দুইজন একমত হয়েছি। এটা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত, বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও অবগত আছেন।’
আ জ ম নাছির উদ্দীন এই সিদ্ধান্তের কথা সভায় উপস্থাপন করার সাথে সাথে মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম দাঁড়িয়ে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটা কোন ধরনের সিদ্ধান্ত হল? একটা লোক এক ওয়ার্ডে ২০ বছর ধরে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। তাকে যদি আবার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রাখা হয় তাহলে সে আরো ২০ বছর থাকবেন। তাহলে নতুন নেতৃত্ব কিভাবে সৃষ্টি হবে? এসময় আ জ ম নাছির উদ্দীন তাকে থামিয়ে দেন। দুইজনের মধ্যে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে দিদারুল আলম মিটিং থেকে বের হয়ে যান।
এদিকে নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শেষ হওয়ার পর নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য হাজী বেলাল আহমদ দাঁড়িয়ে বলেন, আমার কিছু কথা ছিল। এসময় তার কথা বলতে বলা হলে-তিনি নগরীর ওয়ার্ড সম্মেলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘কে নওফেল! কোথাকার নওফেল! সে ছাত্রলীগ করে নাই, যুবলীগ করে নাই। মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে হিসেবে সে চলে এসেছে-মন্ত্রী হয়েছে।’
এসময় নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আহাদ দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মারমুখি হলে-নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন তাকে থামিয়ে দেন। এসময় হাজী বেলাল আহমদ তার বক্তব্য বন্ধ করে বসে যান।
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন সভায় আরো ঘোষণা করেন যে, ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলনের লক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরের ১৫টি থানার সাংগঠনিক টিমের আহ্বায়কগণ যথাযথভাবে সুষ্ঠু সম্মেলন করার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সম্মেলনের তারিখ, সময় ও ভেন্যু নির্ধারণ করা হবে। তিনি শারদীয়া দুর্গোৎসব চলাকালীন সময়ে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে মহানগর আওয়ামী লীগ, থানা এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে পূজা আয়োজনকারীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান এবং সম্প্রীতি, শান্তি ও শৃক্সখলা বজায় রাখার জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এছাড়া পবিত্র ঈদ-এ-মিল্লাদুন্নবীতে জুলুছ আয়োজনের ক্ষেত্রেও মহানগর আওয়ামী লীগ উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করবে বলে জানান। আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বিএনপি-জামায়াত যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তাতে যদি নাশকতা সৃষ্টির অপপ্রয়াশ চালানো হয় তাদেরকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। নাশকতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দলের তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে থাকবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী, অ্যাড. সুনীল কুমার সরকার, অ্যাড ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য শফিকুল ইসলাম ফারুক, হাসান মাহমুদ শমসের, অ্যাড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, হাজী মোহাম্মদ হোসেন, আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, দিদারুল আলম চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মানস রক্ষিত, আব্দুল আহাদ, আবু তাহের, কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল আবছার মিয়া, সৈয়দ আমিনুল হক, গাজী শফিউল আজিম, অ্যাড. কামাল উদ্দীন আহমেদ, কামরুল হাসান বুলু, সাইফুদ্দীন খালেদ বাহার, জাফর আলম চৌধুরী, মহব্বত আলী খান, হাজী মো. ইলিয়াছ, ড. নেছার আহমেদ মঞ্জু, মো. জাবেদ, হাজী বেলাল আহমদ প্রমুখ।