দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, হিজরি নববর্ষ আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় মানব ইতিহাসের এক মহান ঘটনা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরত। হিজরত ছিল শুধু স্থান পরিবর্তন নয়, এটি ছিল সত্য, ন্যায়, ত্যাগ, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার এক অনন্য শিক্ষা। হিজরি বর্ষপঞ্জির সূচনা সেই ঐতিহাসিক হিজরতের স্মৃতিকে ধারণ করে। নতুন বছর আমাদের আত্মসমালোচনার সুযোগ এনে দেয়। আমরা বিগত বছরের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করি এবং নতুন বছরে নিজেদেরকে আরও উত্তম মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি। একজন মুসলমানের জন্য নতুন বছর মানে শুধু আনন্দ–উৎসব নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, তওবা, ইবাদত এবং নৈতিক উন্নয়নের নতুন প্রত্যয়। হিজরি বর্ষ মুসলিম জাতির আত্মপরিচয় ও আত্মত্যাগের এক ঐতিহাসিক স্মারক
হিজরী নববর্ষ উদযাপন মঞ্চের উদ্যোগে গতকাল বুধবার নগরীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে হিজরি বর্ষবরণ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম এ মালেক আরো বলেন, হিজরি বছরের প্রথম মাস হলো মহররম। এটি ইসলামের চারটি সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ মাসের একটি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতাআলা এ মাসসহ সম্মানিত মাসগুলোর মর্যাদা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। মহররম আমাদেরকে সংযম, তাকওয়া ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয়। হাদিস শরিফে এসেছে, রমজানের পর সর্বোত্তম নফল রোজা হলো মহররম মাসের রোজা। বিশেষ করে আশুরার দিনের রোজার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এই রোজা পালন মানুষের গুনাহ মাফের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। মহররম মাস আমাদেরকে আরেকটি ঐতিহাসিক ঘটনার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। কারবালার প্রান্তরে মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর সঙ্গীরা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদেরকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ, সত্যের পক্ষে অবিচল থাকা এবং নৈতিক আদর্শ রক্ষার শিক্ষা দেয়।
হিজরী নববর্ষ উদযাপন মঞ্চের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ছৈয়দ মাওলানা আবু সালেহ’র সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন–অধ্যক্ষ আল্লামা এস এম ফরিদ উদ্দীন।
অতিথি ছিলেন –আল্লামা কাজী জসীম উদ্দীন, অধ্যক্ষ এম ইব্রাহীম আক্তারী, ওয়াহেদ মুরাদ, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তাহেরী, অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দীন, উপাধ্যক্ষ জাকের হোসেন, শহীদুল হক ফারুকী, উপাধ্যক্ষ মুফিজুর রহমান,মঈন উদ্দীন চৌধুরী হালিম, মাসুদ করিম, কাজী মাওলানা শফিউল আজম, কাজী আহসানুল আলম, আলম রাজু, আলী আছগর খান, মাওলানা মুহাম্মদ আনিছুর রহমান, ডা. হাসমত আলী তাহেরী, আবদুল মালেক রেজভী, আহমদ রেজা, তৌহিদ রিয়াদ, মুহাম্মদ রাসেল, মুহাম্মদ মাসরুর আলম, শহিদুল ইসলাম, মুহাম্মদ মোরশেদ রেজা, মাওলানা শওকত আলী, মাওলানা রমিজ উদ্দীন, মাওলানা আবদুল বারী, আবদুল্লাহ আল মোমিন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মুহাম্মদ হাসান ইমাম, ফোরকান উদ্দীন প্রমুখ।
শিক্ষাবিদ ড. শামসুদ্দীন শিশির বলেছেন, এদেশে বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষ ঘটা করে পালিত হয়। অথচ বাংলাদেশ বিশ্বের ২য় বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও নিরবে–নিভৃতে চলে যায় মহিমান্বিত হিজরি নববর্ষ দিবসটি। তিনি এ দিবসটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানান।
এতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুণি শিল্পীদের পরিবেশনায় কেরাত, হামদ–নাতে রাসুল (দ.), সূফী সঙ্গীত, মাইজভাণ্ডারী, কাওয়ালি, নওরোজের গান, জাগরী সংঙ্গীত, দেশাত্ববোধক গান, নাটক–নাটিকা পরিবেশিত হয়।












