হাসানের ৪ উইকেট, টপ অর্ডারের আবারো ব্যর্থতা

ক্রীড়া প্রতিবেদক | শনিবার , ৮ আগস্ট, ২০২৬ at ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ

অস্ট্রেলিয়ায় প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন বাংলাদেশ ইনিংসের পর বল হাতে নিয়েছিল টাইগাররা। ভালোই করেছিল দলের বোলাররা। দুটি উইকেটের পতন ঘটিয়েছিল দিনের শেষভাগে। আগের দিনের সেই ভালো বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা পরের দিনও ধরে রাখেন হাসান মাহমুদরা। প্রস্তুতি খারাপ হয়নি তাসকিন আহমেদেরও। তবে অন্য তিন পেসারই ছিলেন খরুচে। বোলারদের মিশ্র পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ের শুরুতে দুটি উইকেট পড়ে যায় টপাটপ বাংলাদেশের। সব মিলিয়ে তাই অস্ট্রেলিয়ায় প্রস্ততি ম্যাচে ভালো অবস্থানে নেই বলতে হবে বাংলাদেশকে। ডারউইনে তিন দিনের ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের প্রথম ইনিংস থামে ৩৫৫ রানে। লিড পায় তারা ৯২ রানের। বাংলাদেশ দিন শেষ করে ২ উইকেটে ১৯ রানে।

১৭৭ বলে ১৩০ রানের ইনিংস উপহার দেন টিগ উয়াইলি। ২২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৪ ম্যাচ খেলে সেঞ্চুরি করেছেন একটি, ব্যাটিং গড় স্রেফ ২০.৭৯। কিছুদিন আগে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে আসা হাসান শিকার করেন চার উইকেট, তাসকিন আহমেদ দুটি। আগের দিনের সেঞ্চুরির পর বোলিংয়ে দুটি উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরি একটি করে উইকেট নিলেও রান গুনেছেন বেশ। আগের দিন ব্যাটিংয়ের সময় আঙুলে হালকা চোট পাওয়ায় এ দিন বোলিং করতে পারেননি তাইজুল ইসলাম। চোট অবশ্য গুরুতর নয়, মূলত সতর্কতার কারণেই বোলিং থেকে বিরত রাখা হয় তাকে। ১৩ জনের দলে না থেকেও মুশফিক হাসান বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে যান তাইজুলের বদলি হিসেবে। তবে চার ওভার বোলিং করে রান দিয়েছেন তনি দেদার। দিনের শুরুটা খারাপ ছিল না বাংলাদেশের। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই জশ ফিলিপিকে বোল্ড করেন হাসান। আগের দিনের ২২ রানের সঙ্গে আর কেবল দুই রান যোগ করতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চার ওয়ানডে ও ১৭ টিটোয়েন্টি খেলা ব্যাটসম্যান। পরের উইকেটের জন্য অপেক্ষা করতে হয় অনেকটা সময়। ৭৩ রানের জুটি গড়েন কার্টিস প্যাটারসন ও জ্যাক ক্লেটন। বেশ আগ্রাসী ব্যাট করা ক্লেটনকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ইবাদত হোসেন। টম রজার্সের চোটে শেষ সময়ে সুযোগ পাওয়া এই ব্যাটসম্যান ৫৮ বলে করেন ৪৮। একটু পর প্যাটারসনকে বোল্ড করে দেন হাসান। দুই টেস্ট খেলে একটিতে সেঞ্চুরি করে ১৪৪ গড়ের এই ব্যাটসম্যান ৩৩ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ফেরার দুয়ারে আছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে। তার ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান। দাপট তখন ছিল বাংলাদেশেরই। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের রান ছিল ৫ উইকেটে ১৩৯। সেখান থেকেই সবচেয়ে বড় জুটি পায় তারা। উয়াইলি ও জেইক ডোরান যোগ করেন ১৫৭ রান। ৩৫ ওভারের বেশি সময় বাংলাদেশকে হতাশ করেন তারা। কিপারব্যাটার ডোরানকে ৭৬ রানে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মিরাজ। এই অফ স্পিনার একটু পর জার্সিস ওয়াদিয়াকে বোল্ড করে দেন শূন্যতেই। তবে লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে দলকে সাড়ে তিনশ পার করান উয়াইলি। হাসানের সামনে হাতছানি ছিল পাঁচ উইকেটের। সেটি হয়নি। উয়াইলিকে ফিরিয়ে ইনিংস শেষ করেন খালেদ। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারেই হারায় সাদমান ইসলামকে। প্রথম ইনিংসে ৩১ রান করা ওপেনার এবার পুল খেলে ফাইন লেগে ধরা পড়েন ৬ রানে। প্রস্তুতির সুযোগ এই ইনিংসেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ মুমিনুল হক। ৬ রানেই বোল্ড হন তিনি দিনের শেষ বেলায়। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৫৮ বলে ১৬। তার বিদায় দিয়েই শেষ হয় দিনের খেলা। প্রথম ইনিংসে শূন্যতে ফেরা ওপেনার তানজিদ হাসান এ দিন কাটিয়ে দেন শেষ বিকেলটুকু।

পূর্ববর্তী নিবন্ধত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল
পরবর্তী নিবন্ধহাসপাতালে মিঠুন চক্রবর্তী