স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প উদ্বোধন । সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে

| শুক্রবার , ২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকে স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার এক হয়েছে। তারা মিলেমিশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। যারা অরাজকতা তৈরি করে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, ইমাম–পুরোহিতদের সম্মানী এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের সহায়তা কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, আমরা কথা রেখেছি। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম কৃষক কার্ড দেব, ফ্যামিলি কার্ড দেব। ইমাম–পুরোহিতদের সম্মানী দেব। আমরা যদি এসব কাজ সফলভাবে করতে পারি, তাহলে জনগণ উপকৃত হবে। খবর বাসস ও বাংলানিউজের।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কাজ শুরু করেছিলেন, যাতে মানুষ উপকৃত হয়। বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। আমরা বন্ধ কলকারখানাগুলো নতুন করে চালু করতে চাই। এতে মানুষ উপকৃত হবে।

দেশে অরাজকতা তৈরি হলে জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেয়াল করে দেখবেন, আমরা জনকল্যাণমুখী কাজগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে চাই। যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে এবং যারা ‘এক দফা’ দফা করছে, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের কি খাল কাটা কর্মসূচি আছে? তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? কৃষক কার্ড কর্মসূচি আছে? মানুষের জন্য তাদের রাজনীতি কই?

তারেক রহমান বলেন, একটি দল নির্বাচনের আগে বেহেশতের টিকিট বিক্রির কথা বলতো। যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা তারা কী করে দেবে? তাদের মুনাফেকি প্রকাশ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর গুপ্ত বাহিনী বলেছিল, তারা যদি ফিরে আসে অসুবিধা নেই। বলবেই তো, তারা তো স্বৈরাচারের সঙ্গেই রাজনীতি করতো।

এর আগে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা–ভোগান্তি কমাতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ‘মুহুরী–কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিনের কর্মসূচিতে ৭ হাজার ৬৪৩ জনকে কৃষক কার্ড, ৫১০ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ২৩৮ জন ইমাম, পুরোহিত ও সেবায়েতকে সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়। পরে গুরুতর অসহায় ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের মধ্যেও সহায়তার চেক বিতরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সর্বশক্তি দিয়ে সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে এবং দেশে পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার ধ্বংসকৃত আইনের শাসন পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি বলেন, এ দেশের জনগণ যখন বিএনপি সরকারের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তখন সরকার তার সর্বশক্তি দিয়ে ইনশাআল্লাহ সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন সদস্যের সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী অন্যের সমালোচনা করার আগে তাদের নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০–তে উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, এর ফলে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন না হলে মানুষকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে জেলা শহর কিংবা ঢাকায় ছুটতে হবে না এবং নিজ এলাকার কাছাকাছি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রসারিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ডায়ালাইসিস সেবা এবং মা ও শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। অতিরিক্ত ১০০টি শয্যা যুক্ত করার পাশাপাশি নতুন বিভাগও চালু করা হবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী–১ আসনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়িত। ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশাহ আমানত বিমানবন্দরে রেস্ট হাউস ও হেলথ সেন্টার স্থাপন করা হবে
পরবর্তী নিবন্ধএকাদশে ভর্তির দ্বিতীয় দফার ফল প্রকাশ