পরিবারের অমতে তিন–চার মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে একই জেলার এক যুবককে বিয়ে করেছিলেন তানজিনা আক্তার (২২)। গত রোববার রাতে স্বামী মো. আকাশের সঙ্গে একই ঘরে ছিলেন তিনি। পরদিন গতকাল সোমবার সকালে সেই ঘর থেকেই তানজিনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে নগরের খুলশীর ঝাউতলা টিকিট প্রিন্টিং প্রেস কলোনি মসজিদসংলগ্ন রেলওয়ে কোয়ার্টারের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্ত্রীর মরদেহটি রেখে পালিয়ে যান স্বামী মো. আকাশ। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়; তানজিনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নিহত তানজিনা আক্তার ওই এলাকার মো. শাহ আলমের মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। তার স্বামী মো. আকাশ গাইবান্ধা জেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মো. আকাশের সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তানজিনার। পরিবারের অমতে তিন–চার মাস আগে আদালতের মাধ্যমে তারা বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর আকাশের পরিবার তানজিনাকে মেনে নেয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।
নিহতের বড় ভাই মো. আব্দুর রহিম বলেন, তানজিনা এইচএসসি পাস করার পর এলাকায় প্রাইভেট পড়াতেন। ওই সময় আসা–যাওয়ার সূত্রে আকাশের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আকাশের একটি তরকারির দোকান ছিল। পরে ব্যবসার পুঁজি বাড়ানোর কথা বলে তানজিনার জমানো টাকা নিয়ে নেন আকাশ। বিয়ের পর থেকে ব্যবসার জন্য আরো টাকা আনতে তানজিনার ওপর চাপ দেওয়া হতো। পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা এনে দিতে না পারায় তাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
আব্দুর রহিম বলেন, বিয়ের আগে আকাশের পরিবারের সদস্যরা আমার বোনকে পছন্দ করতেন এবং তাদের বাড়িতে তার আসা–যাওয়া ছিল। কিন্তু বিয়ের পর তারা আমার বোনকে আর মেনে নেয়নি। এমনকি তাদের ঘরেও উঠতে দেয়নি। পরে তানজিনার মা তাদের বাসার সঙ্গে লাগোয়া একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে নবদম্পতিকে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করে দেন বলে জানান তিনি।
নিহতের ভাইয়ের ভাষ্য, রোববার রাতে আকাশ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাত খেয়ে তানজিনাকে নিয়ে তাদের কক্ষে ঘুমাতে যান। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে তানজিনার মা নাস্তা খাওয়ার জন্য তাদের ডাকতে গেলে আকাশ দরজা খুলে দেন। এ সময় তিনি তানজিনাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে চিৎকার করে ওঠেন। এরপর আকাশ ‘কিছু হয়নি’ বলে দ্রুত তানজিনার মরদেহ ঘর থেকে বের করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের সামনে মরদেহ রেখে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান।
আব্দুর রহিম বলেন, এটি আত্মহত্যা নয়। আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ বিষয়ে মামলা করার কথাও জানিয়েছেন নিহতের বড় ভাই।
খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনোতোষ বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরে চমেক হাসপাতালে যায়। নিহতের স্বামী নিজেই মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের স্বামী মো. আকাশ পলাতক রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।












