স্ক্রিনশট পোস্ট করা নিয়ে শাহবাগে উত্তেজনা, ২ ডাকসু নেতাকে মারধর

| শুক্রবার , ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এরমধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতাকে শাহবাগ থানার মধ্যে মারধর করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর শাহবাগ থানায় এবং এর সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় মারধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতিসহ কয়েকজন সদস্যও আহত হন। খবর বিডিনিউজের।

আহতদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন তারা। অপরদিকে ছাত্রদলের কর্মীদের অভিযোগ এক শিবিরকর্মী ওই কুরুচিপূর্ণ পোস্টটি দিয়েছেন। ছাত্রশিবিরের তরফে ওই স্ক্রিনশট ভুয়া বলে দাবি করা হয়। ঘটনার কেন্দ্রে থাকা শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বিষয়টি শাহবাগ থানায় জানাতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনায় তাকে দায়ী করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। ঘটনা জেনে থানার গিয়ে সেখানে হামলার শিকার হন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ ও সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার এ ঘটনার ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, শাহবাগ থানার ওসির দরজার সামনে মোসাদ্দেককে মারধর করা হচ্ছে। থানা হাজতের সামনে মারধরের শিকার হন জুবায়ের। এ সময় ছাত্রদলেরই কয়েকজনকে শিবিরের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের এ দুই ডাকসু নেতার ওপর হামলা ঠেকাতে চেষ্টা করতে দেখা যায়। এ ঘটনার পর শাহবাগ থানা এলাকার আশাপাশে ও ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে থানার প্রধান ফটক বন্ধ রেখেছে পুলিশ। বাইরে অবস্থান নিয়ে শিবিরকে ইঙ্গিত করে ‘গুপ্ত’সহ বিভিন্ন রকমের স্লোগান দিচ্ছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রদলের তরফে দাবি করা হয়, আব্দুল্লাহ নামে এক শিবিরকর্মী ওই কুরুচিপূর্ণ ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছেন। এটি ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। ছাত্রশিবিরের নেতাদের ভাষ্য, এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে সন্ধ্যায় শিবিরের ওই কর্মী তার নামে ভুয়া স্ক্রিনশট ছড়ানো হচ্ছে বলে থানায় যান সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে। এসময় উত্তেজিত ছাত্রদল নেতাকর্মীরাও সেখানে জড়ো হন। এরপর থানায় যান ডাকসুর দুই নেতা মোসাদ্দেক ও জুবায়ের। তারা সেখানে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন।

কয়েকটি ভিডিওতে তাদের ঘিরে ছাত্রদল নেতাদের স্লোগান দিতে ও টানাহেঁচড়া করতে দেখা যায়। এসময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও বাগবিতণ্ডা হতে দেখা যায়। দুই পক্ষের উত্তেজনার মধ্যে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের কয়েকজন সাংবাদিক কথা বলতে গেলে তারাও মারধরের শিকার হন। এসময় ঢাকা বিশ্বদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতিসহ অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন।

ঘটনার বিষয়ে ডাকসুর ভিপি সাদেক কায়েম ফেসবুক পেজে ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানারের’ একটি ফটোকার্ড জুড়ে দিয়ে একটি পোস্ট দেন। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাইমা রহমানের ছবি এআই দিয়ে আপত্তিকরভাবে বানিয়ে তৈরি করে পোস্ট দেওয়া হয় এহসান চৌধুরী নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে। তবে এহসান চৌধুরীর আইডির সেই ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট এডিট করে পোস্টটি ডাকসুতে শিবির সমর্থিত প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের হয়ে নির্বাচন করা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এর ফেসবুক থেকে করা হয়েছে বানিয়ে প্রচার করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমার্কিন কোম্পানি থেকে এক কোটি ৩০ লাখ লিটার পাম অলিন কিনছে সরকার
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে আরো ৪ শিশুর হাম শনাক্ত