সীতাকুণ্ডে মিনি কাভার্ডভ্যান চাপায় বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রীসহ ৪ জন আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাঁশবাড়িয়া বাজারে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে স্কুল ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় আহতরা হলেন, স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হারুনের মেয়ে অত্র বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মুনতাহা (১৪), মোহাম্মদ রুবেলের মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নওরীন (১২), রবিউল হোসেনের মেয়ে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী তাসনুভা আক্তার (১৪)। এক ব্যসায়ী আহত হয়। তার নাম জানা যায়নি।
এ ঘটনার পর মহাসড়কে বাঁশ ফেলে আগুন লাগিয়ে বিকেল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা ব্যারিকেড সৃষ্টি করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় ফৌজদারহাট থেকে শুরু করে বড় দারোগারহাট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা অন্যান্য দিনের মতো বাড়ি ফিরে যাচ্ছিল। এসময় বাঁশবাড়িয়া বাজারে তারা পৌঁছালে একটি ঢাকামুখি মিনি কাভার্ডভ্যান তাদের সজোরে চাপা দেয়। এসময় তিন শিক্ষার্থীসহ ৪ জন আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ছাত্রী মুনতাহার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে প্রেরণ করেন।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ৫টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া বাজার এলাকায় অবস্থান করে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বাঁশে আগুন দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় ফৌজদারহাট থেকে শুরু করে বড় দারোগারহাট পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটারেরও বেশি দূরপাল্লার যানবাহন মহাসড়কে আটকা পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন শিশুসহ দূরপাল্লার যাত্রী সাধারণ।
সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সালামত উল্লাহ বলেন, আহত ছাত্রীরা সকলেই আমাদের ইউনিয়নের। অন্যান্য দিনের মতো তারা রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি মিনি কাভার্ডভ্যান ছাত্রীদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তারা আহত হয়। ছাত্রী আহতের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুদ্ধ জনতা মহাসড়কে ৫ টার দিকে অবস্থান করে বাঁশে আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে প্রায় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মহাসড়কের পাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ওভারব্রিজ নির্মাণ করার আশ্বাসে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ২ ঘণ্টা পর ব্যারিকেড তুলে নেয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী তিনজন গাড়ি চাপায় আহতের ঘটনায় এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে বাঁশের মধ্যে আগুন দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে সড়ক থেকে ব্যারিকেড তুলে নেয়। এরপর গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। এছাড়া খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো.. আব্দুল্লাহ আল মামুন, বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল হক। হাইওয়ে থানার ওসি বলেন, মহাসড়ক থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।












