নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবার সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের ভবনসহ সাতটি ভবনের মালিককে মোট ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এ সময় একটি ভবন সিলগালা এবং দুটি ভবনের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
সিডিএ সূত্র জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে পরিচালিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় গতকাল নগরীর কোতোয়ালী ও চকবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সিডিএর অথরাইজড জোন–২ এর আওতাধীন লালদিঘীর পাড়, আসকার দিঘীর পাড় ও চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নকশার ব্যত্যয়, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ ও পার্কিংয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে চকবাজারের চট্টেশ্বরী রোডে সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের ছয়তলা ‘হামদর্দ বিল্ডিং’–এ অভিযান চালানো হয়। ভবনটির নিচতলার পার্কিং স্পেস দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগে মালিকপক্ষকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে পার্কিং স্পেসে নির্মিত দোকানপাট আগামী নভেম্বরের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানকালে ভবনটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সময় ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এর নকশা পুড়ে গেছে। তবে পরিদর্শনের সময় তারা ভবন নির্মাণের অনুমোদনপত্র সিডিএ কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করেন।
সিডিএ সূত্র জানায়, গতকাল মোট সাতটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। এসব ভবনে নকশার ব্যত্যয় ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগে মোট ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া একটি ভবন সিলগালা করা হয় এবং দুটি ভবনের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। অভিযানে সিডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইমারত নির্মাণ কমিটি–২ এর চেয়ারম্যান মো. মনজুর হাসান, অথরাইজড অফিসার–২ তানজিব হোসেন, সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. হামিদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার চউকের অথরাইজড জোন–১ এর আওতাধীন পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ থানা এলাকায় একই ধরনের অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে নকশাবহির্ভূত ও অনিয়মপূর্ণ নির্মাণের অভিযোগে তিনটি ভবন সিলগালা এবং একটি ভবনকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বেবি সুপার মার্কেট এলাকায় একটি প্লটের অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে প্লটটি বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীকে ইট–পাথরের জঞ্জালে পরিণত করা হয়েছে। নগরীতে ভবন নির্মাণে শৃক্সখলা ফিরিয়ে আনতে সিডিএ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান। তিনি বলেন, যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক না কেন, অনিয়মের ক্ষেত্রে সিডিএর অবস্থান জিরো টলারেন্স। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ, নকশার ব্যত্যয় কিংবা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে সবুজ, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।












