সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধার করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য

স্পোর্টস ডেস্ক | রবিবার , ২৬ জুলাই, ২০২৬ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ একবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেটা ২০০৩ সালে। ঘরের মাঠের আয়োজনে প্রথম ও সবশেষ বাংলাদেশ সাফের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেবার। এরপর আর শিরোপার দেখা পায়নি বাংলাদেশ। এদিকে আগামী আসরের আয়োজক হচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ অনুভব করতে পারছেন বাংলাদেশের হেড কোচ টমাস ডুলি। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসে বাংলাদেশ কোচ বলেন, চ্যাম্পিয়ন হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য তার। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পঞ্চদশ আসর আগামী ৪ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এবারের প্রতিযোগিতার লোগো উন্মোচন করা হয়। প্রায় দুই যুগ ধরে সাফের আঙিনায় চলা বাংলাদেশের খরা কাটানোর ভার এখন ডুলির কাঁধে। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের এই কোচ নানা বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে শোনান আশাবাদও। ‘টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। শেষ পর্যন্ত আমরা জিতব কি না জানি না, তবে আমি বলতে পারি, জেতার জন্য সাধ্যমতো সবকিছু করার চেষ্টা করছি। খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও একই কথা। আমি খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও একই জিনিস চাই, মাঠে নামো, যা আছে তার সবটুকু উজাড় করে দাও এবং যদি প্রতিপক্ষ ভালো খেলে, তাহলে দুর্ভাগ্য। হয়তো তখন আমরা খুঁজে বের করব যে আমরা কী ভুল করেছি; যার কারণে এমনটা হয়নি, তবে এটি কেবল কথার কথা নয়, এটি কাজের বিষয়’। ‘২৩ বছর হয়ে গেছে বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা জিতেছে। তাই আমি মনে করি, এখন সময় এসেছে। আমাদের আত্মবিশ্বাসের সাথে এগোতে হবে, তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে নয়। লক্ষ্য তখনই পূরণ হবে, যখন সবাই তাদের সেরা খেলাটা খেলবে এবং সঠিক সময়ে সেরা খেলাটা উপহার দেবে।’ দুটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে ডুলির। ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ নিজের খেলোয়াড়ী জীবনের মানসিকতা দেখতে চান তপুমোরসালিনদের মধ্যে। ‘আমার সবসময় যে মানসিকতা থাকে, যখন খেলতাম, যখন কোচিং করাইআমি প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই। কার বিপক্ষে খেলছি তা বিবেচ্য নয়। আমরা যদি জার্মানি, ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা বা অন্য যে কোনো দলের বিপক্ষে খেলি, আমি জিততে চাই। তাই এটি এমন এক ধরনের মানসিকতা যা আমার আছে এবং আমাকে খেলোয়াড়দের মধ্যেও এটি ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে তারাও একই কথা ভাবে। সাফে আমরা আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা জার্মানি বা ইংল্যান্ড বা এমন কোনো দলের বিপক্ষে খেলছি না, আমরা আমাদের প্রতিবেশী দলগুলোর বিপক্ষে খেলব। তারাই সেই দল যারা র‌্যাঙ্কিংয়ে আমাদের থেকে একটু পিছিয়ে বা একটু এগিয়ে আছে। মাঠে নামার সময় আমাদের কী ধরনের মানসিকতা থাকে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে কি এটা সম্ভব? সবকিছুই সম্ভব। তবে, আমরা যদি এটিকে খুব সহজভাবে নিই, তাহলে স্পষ্টতই খুব কঠিন হবে, কিন্তু যদি আমরা গুরুত্ব সহকারে নিই, তবে ওই ট্রফিটি জেতার সম্ভাবনা আমাদের আছে।’ কোচের সুরে সুর মেলান অনুষ্ঠানে আসা ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন, ডিফেন্ডার তপু বর্মনও। নিজেদের মাঠে, চেনা দর্শকের সামনে খেলাটা বিশাল সুযোগ মানছেন মোরসালিন। ‘কোচ সবসময় জিততে চান, এটাই আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করেটিম মিটিং হোক বা সব জায়গায় কোচ সবসময় জিততে চান, তাই আমাদের ভাবনাও একই। যেভাবেই হোক জিততে হবে। এটা আমি মনে করি, আমাদের জন্য একটা বিশাল সুযোগ। কারণ অনেক আগে আমরা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, এর মধ্যে আমরা হতে পারি নাই, তাই এই সুযোগ আমরা কোনোভাবেই মিস করতে চাই না।’ সাফের গত আসরে সেমিফাইনালে যাত্রা থেমেছিল বাংলাদেশের।

তবে, হামজা চৌধুরী, সমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলামদের মতো প্রবাসীরা থাকায় এখন দলের শক্তি আরও বেশি। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হামজাসমিতদের সাথে খেলার সুবাদে দলের মধ্যে বোঝাপড়া এখন আগের চেয়ে ভালো। তপু তাই অনেক কারণেই দেখছেন বড় স্বপ্ন। ‘২৩ বছর আগে আমরা সাফ জিতেছি, আসলে এটা আমাদের মনে হয়, সবার মূল লক্ষ্য জেতা। আমাদের দেশে খেলা, গ্যালারিতে আমাদের সমর্থক থাকবে, সমগ্র জাতি আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে, আমাদের একটা বড় দায়িত্ব আছে, কিন্তু আমরা আসলে মাঠে সেটা প্রমাণ করতে চাই যে আমরা সবার চেয়ে ভালো এবং আমরা যোগ্য। আমরা হামজা, সমিতদের সাথে ইতোমধ্যে এক বছর একসাথে খেলেছি এবং জানি যে তাদের মানসিকতা কেমন, বিশেষ করে অনুশীলন, ম্যাচ চলাকালীন সময়ে নিশ্চিতভাবে এটা আমাদের কারো জন্য কোনো সমস্য হয় না। তারা যখন দলে আসে, আমরা আরও বেশি উজ্জীবিত হই এবং আমাদের ভেতরে সেই চাঙ্গা ভাবটা ফিরে আসে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্টে নেই লিটন শরিফুলকে নিয়েও অনিশ্চয়তা
পরবর্তী নিবন্ধ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ মায়ের ফুফা গ্রেপ্তার