সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশুগজি হত্যার ঘটনা তদন্তে ফ্রান্সে একজন বিচারককে নিয়োগ করা হয়েছে। ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির কার্যালয় (পিএনএটি) শনিবার জানায়, আদালত মামলাটিকে গ্রহণযোগ্য বলে রায় দেওয়ার পর একজন ফরাসি বিচারককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হল। পিএনএটি জানায়, প্যারিস আপিল আদালত গত ১১ মে মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘ট্রায়াল ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’–এর দায়ের করা অভিযোগটিকে আমলে নিয়ে তদন্তের আদেশ দেয়। এর পরিপ্রক্ষিতে নির্যাতন এবং গুম করার অভিযোগ নিয়ে এই তদন্ত চলবে। তবে খাশুগজির নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান ‘ডন’–এর পক্ষ থেকে করা আলাদা একটি আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছে। খবর বিডিনিউজের। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে জামাল খাশুগজিকে সৌদি এজেন্টরাই নির্মমভাবে হত্যা করেন এবং তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। যুবরাজ সালমান এই হত্যার নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও ঘটনাটির দায় নেন। তিনি বলেছিলেন, তার সরকারের অধীনে এই ঘটনাটি ঘটায় রাষ্ট্রীয়ভাবে এর দায়ভার তার। হত্যার ঘটনা তদন্তে ফরাসি বিচারক নিয়োগের সিদ্ধান্ত খাশুগজি হত্যা মামলায় এক নতুন আইনি মাত্রা যোগ করেছে। কারণ এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া অনেকটাই স্থিমিত হয়ে পড়েছিল। ২০২২ সালে তুরস্কের একটি আদালত এই মামলার ২৬ জন সৌদি সন্দেহভাজনের বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত করে মামলাটি সৌদি আরবে স্থানান্তর করে, যা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেন প্রশাসন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রধানমন্ত্রী পদের কারণে আইনি দায়মুক্তি দেওয়ায় সে দেশের একটি ফেডারেল আদালত খাশুগজির বাগদত্তার দায়ের করা দেওয়ানি মামলা খারিজ করে দেয়।
ফরাসি আইন অনুযায়ী, বিদেশে সংঘটিত নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দেশটির বিচারকরা তদন্ত শুরু করতে পারেন। তবে এই আইনে বিচার সম্পন্ন করার জন্য সাধারণত সন্দেহভাজনদের ফরাসি ভূখণ্ডে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হয়। এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।













