প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর নেতৃত্বাধীন চীনা সরকারের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল গত শুক্রবার বেইজিং ছেড়েছে। তবে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে, হোয়াইট হাউসের কর্মী ও সাংবাদিকদের সফরে সংগ্রহ করা বিভিন্ন জিনিসপত্র জমা দিতে হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল কর্মীদের বার্নার ফোন, পরিচয়পত্র এবং চীন থেকে দেওয়া ল্যাপেল পিন। খবর বাংলানিউজের।
হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলের একজন সাংবাদিক জানান, এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভ্রমণকারীরা বিমানের সিঁড়ির নিচে রাখা একটি বাক্সে সেই জিনিসগুলো ফেলে দেন। নিউইয়র্ক পোস্টের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি এমিলি গুডিন এক্স–এ একটি পোস্টে লিখেছেন, বিমানে চীন থেকে কোনো কিছুই আনার অনুমতি নেই।
সফরের ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প, হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টসহ মার্কিন সরকারি প্রতিনিধিদলের বেশ কয়েকজনের কোটের ল্যাপেলে পিন লাগানো রয়েছে। তবে গুডিন ব্যাখ্যা করেননি কেন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের ওই জিনিসগুলো ফেলে দিতে হয়েছিল, যদিও সম্ভবত তা নিরাপত্তাজনিত কারণেই। শীর্ষ সম্মেলনটি সৌহার্দ্যপূর্ণ মনে হলেও, উন্নত গোয়েন্দা ও গুপ্তচরবৃত্তির সক্ষমতার কারণে চীন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবেই রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে চীনকে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সাইবার হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করে আসছে। এটা বিশ্বাস করা অযৌক্তিক নয় যে উপহার হিসেবে দেওয়া কিছু জিনিসপত্রে আড়িপাতার ব্যবস্থা থাকতে পারে, যেমনটা মর্কিন সরকারগুলো আগেও করেছে। এটাও ধরে নেওয়া যুক্তিসঙ্গত যে, ভ্রমণকালে বার্নার ফোনগুলোকে সম্ভবত লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। বার্নার ফোনগুলো নতুন এবং বিশেষ ডিভাইস হিসেবে তৈরি করা হয়, যা এমন জায়গায় ব্যবহার করা যায় যেখানে আক্রমণের আশঙ্কা থাকে এবং পরে সেগুলো ফেলে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।












