সন্দেহ করে কাউকে বাংলাদেশি বলে তাড়ানো যাবে না

কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

| শনিবার , ১০ অক্টোবর, ২০২৬ at ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

শুধু সন্দেহ বা প্রতিবেশীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে দেশছাড়া করা যায় না। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের পরিচয় ও নথিপত্র উপস্থাপনের যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তির আটক ও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়ে শুনানিতে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। খবর বাংলানিউজের।

গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত দ্য টেলিগ্রাফ–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানির সময় বিচারপতি ওই ব্যক্তিকে প্রায় দুই মাস ধরে আটকে রাখার কারণ এবং তার নাগরিকত্ব নির্ধারণে অনুসরণ করা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মামলাটি করেছেন আটক ব্যক্তির স্ত্রী। তিনি ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) জারি করা দেশান্তরের আদেশ এবং তার স্বামীর আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করেছেন। স্ত্রীকে আটক করা হয়নি। আদালতে আবেদনকারীর আইনজীবী রবিউল ইসলাম জানান, গত ৮ আগস্ট থেকে তার মক্কেল আটক রয়েছেন। কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি সন্দেহই তাকে আটকে রাখার প্রধান কারণ বলে দাবি করেন তিনি। শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব প্রমাণের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। মাত্র কয়েকজনের বক্তব্যের ভিত্তিতে কীভাবে কারও জাতীয়তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, কাউকে আটক রাখা বা দেশছাড়া করার আগে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। বিচারপতি আরও প্রশ্ন করেন, ১৯৭০–এর দশক থেকে কত মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছেন এবং তাদের সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব? তিনি বলেন, কাউকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সরকারের উচিত তার নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা। কয়েকজনের বক্তব্যের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার দাবি করেন, আটক ব্যক্তি জাল বা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ভোটার পরিচয়পত্র, আধার ও প্যান কার্ডের মতো নথি সংগ্রহ করে থাকতে পারেন। তবে নাগরিকত্ব নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি এবং দেশান্তরের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন ওঠে। শুনানি চলাকালে দেশান্তরের আদেশ আপাতত স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়। পরে বিচারপতি মামলাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে উপযুক্ত বেঞ্চে শুনানির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন। অর্থাৎ, ব্যক্তিটির নাগরিকত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য অন্য বেঞ্চে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন সোনালি মূর্তি