শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা–২০২৬ এর উদ্বোধন আগামী ৯ আগস্ট হচ্ছে না। একমাস পিছিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরের ৯ বা ১০ তারিখ এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হবে চট্টগ্রামে। ক্রীড়াঙ্গনের বিশাল এ আয়োজন প্রথম পর্যায়ে ৯ আগস্ট হতে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রামের সামপ্রতিক বন্যা, ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্বাসন প্রভৃতি সার্বিক দিক বিবেচনায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন এক মাস পিছিয়ে দেয়া হয় বলে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। তবে মাঠের খেলা পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৯ আগস্ট থেকে শুরু হবে। এ প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্যায়ে দেশের ৪০ হাজার ২৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেবে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব কনফারেন্স হলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ এমপি, আবু সুফিয়ান এমপি, টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক ও শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ প্রতিযোগিতায় দেশের ১৯ হাজার ২১১ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৫৫৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৮০টি কলেজ, ৯ হাজার ২৯৬টি মাদ্রাসা, ৬ হাজার ৭৮৮টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। প্রতিযোগিতা মাধ্যমিক পর্যায়ে বালক ও বালিকা দল এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পর্যায়ে বালক ও বালিকা দল গঠনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলা উপজেলা পর্যায়ে শেষ হওয়ার পর জেলা, অঞ্চল (বিভাগ) এবং জাতীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলা উপজেলা/থানা পর্যায়ে ৬ অক্টোবর শুরু হয়ে জেলা, অঞ্চল (বিভাগ) বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে শেষ হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে বালক ও বালিকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বালক ও বালিকা দল এ চার ক্যাটাগরিতে ৮ অঞ্চলের ৩২টি দল নিয়ে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৪টি দল জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। এ ছাড়া সেরা থিম সং, রিল মাস্কাট তৈরিকৃত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকেও পুরস্কৃত করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, এ প্রতিযোগিতা শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, পড়াশোনার সাথে সাথে এটি দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বৃহৎ ক্রীড়া উদ্যোগ। শিক্ষা ও খেলাধুলাকে সমন্বয় করে মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলাই এ প্রতিযোগিতার লক্ষ্য। মেধাবী ফুটবলার নির্বাচন করে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি, স্কুল–কলেজ পর্যায়ে নিয়মিত ফুটবল চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি এবং ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা–এ প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য। তাছাড়া এর মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় হতে দূরে রেখে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা যাবে। ফলে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা সৌহার্দ্য ও দলগত মনোভাব গড়ে উঠবে। ইতিমধ্যে সারা দেশে এ প্রতিযোগিতা আয়োজনের যাবতীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রতিযোগিতার সফল আয়োজনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও অতিথিরা একটি রোড শো’তে অংশ নেন। জামালখান থেকে রোড শো জেলা স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। রোড শো শেষে সবাই জেলা স্টেডিয়ামের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন ও কর্মরতদের বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেন।











