রাষ্ট্র পরিচালনায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

ঐতিহাসিক পলাশী দিবসের সেমিনার

| বুধবার , ২৪ জুন, ২০২৬ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

ঐতিহাসিক পলাশী দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আব্দুল খালেক মিলনায়তনে সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, পলাশীর মূল শিক্ষা হচ্ছে জাতীয় ঐক্য সংহতি গড়ে তোলা। পলাশী দিবস উদযাপন পরিষদের আয়োজনে ‘আর নয় পলাশী : চাই জাতীয় ঐক্য ও সংহতি’ বিষয়ক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পলাশী দিবস উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক এস এম সিরাজুদ্দৌলাহ্‌। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান। প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মুহিবউল্যাহ্‌ ছিদ্দিকী।

সেমিনার উদ্বোধন করেন নবাব সিরাজউদ্দৌলাহ্‌’র ৯ম রক্তধারা প্রজন্ম সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেফ ওরফে নবাবজাদা আলী আব্বাসউদ্দৌলা। তিনি বলেন, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং সত্যমিথ্যার দ্বন্দ্বে সত্যকে সদা সমুন্নত রাখতে ঐতিহাসিক কারবালা ট্রাজেডির শিক্ষা যেমন বিশ্ব মুসলিমের জন্য অপরিহার্য, অনুরূপ স্বদেশপ্রেম, স্বদেশীয় রাজনীতি এবং মুসলিম ঐতিহ্য ও আদর্শ বজায় রেখে রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও সংসদে বিরোধী দলসহ দেশপ্রেমী সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে ঐতিহাসিক পলাশীবিপর্যয় থেকে যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মুহিবউল্যাহ্‌ বলেন, পলাশীর প্রধান শিক্ষা হল, কারো তুলনামূলক সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও অতুলনীয় অর্জন থাকলেও কর্মস্থলে সততা, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ হারালে তাকে তার অসততা, বিশ্বাসঘাতকতা ও কর্তব্যকর্মে দায়িত্ব অবহেলার জন্য চরম পরিণতি ভোগ করতেই হবে। নবাবের বিশ্বস্ত প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের বিশ্বাসঘাতকতায় ইংরেজদের সাথে পলাশী যুদ্ধে কেবল নবাবের পরাজয় হয়নি, ভারতবর্ষে মুসলিম নেতৃত্ব ও সোনালী মুসলিম শাসনের অবসানও ঘটেছিল। তা থেকে উত্তরণে প্রতিবাদী অসংখ্য উলামামাশায়েখ ও সচেতন মুসলিম জনতাকে অকাতরে প্রাণ দিতে হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু বকর রফীক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামী শাসন ব্যবস্থার আবহ বজায় রাখার স্বার্থে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। স্বাগত বক্তব্য দেন, ইসলামী সাহিত্যিক ও মানবাধিকার গবেষক মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার। ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চিটাগংয়ের ক্যাম্পাস কোঅর্ডিনিটর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীনের সঞ্চালনায় প্রবন্ধের আলোকে বক্তব্য দেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ্‌ নোমান, ইতিহাস অন্বেষা সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলাম, গবেষক সোহেল মোহাম্মদ ফখরউদদীন, অধ্যক্ষ আবদুর রহমান চৌধুরী। দ্বিতীয় পর্বে ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক সাময়িকী ‘নাগরিক বার্তা’র বিশেষ সংখ্যা প্রকাশনার সম্পাদকীয় উপস্থাপন করেন সাময়িকীর সম্পাদক ও পলাশী উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব প্রবীণ সাংবাদিক এম ওসমান গণি। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ লিয়াকত আলী ও আলী মুনীর খোরাসানী।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা মুহাম্মদ করীম উদ্দীন নূরী, স্কাউট লিডার ট্রেনার মো. সোলায়মান, কবি কাজী নজরুল ইসলামের ইসলামী তারানাহ্‌ উপস্থাপন করেন কাজী নাজমুল হাসান সেলিম ও মো. নজরুল হোসেন শুকরিয়া। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রিমিয়ার ভার্সিটিতে ইথিকস রিভিউ বোর্ড সভা
পরবর্তী নিবন্ধএনসিপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ