রামিসার স্কুলে গিয়ে কাঁদলেন বাবা, কাঁদালেন সহপাঠীদের

| শুক্রবার , ২২ মে, ২০২৬ at ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর মিরপুরের পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির কক্ষ। সামনের বেঞ্চে প্রতিদিন যে শিশুটি হাসিমুখে বসতো, আজ সেখানে নেই কেউ। তার আসনে রাখা রঙিন ফুলের তোড়া। সহপাঠীদের চোখে জল, শিক্ষকদের কণ্ঠ ভারী। আর কখনো স্কুলে ফেরা হবে না দ্বিতীয় শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের।

মেয়ে শোকে কাতর বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা গতকাল গিয়েছেন পপুলার মডেল স্কুলে। এ সময় রামিসার সহপাঠীদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবদুল হান্নান মোল্লা। এসময় স্কুলে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লাকে ঘিরে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে তার সহপাঠীরাও। রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে গত মঙ্গলবার হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ করা হয়।

গত বুধবার রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে এশার নামাজ শেষে জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাদাদাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় শিশু রামিসাকে। মেয়েকে দাফন শেষে ঢাকায় ফেরেন আবদুল হান্নান মোল্লা। বৃহস্পতিবার গিয়েছিলেন মেয়ের স্কুলে। সেখানে রামিসার সহপাঠীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি।

এর আগে গতকাল এক ভিডিওতে আবদুল হান্নান মোল্লাকে বিচারব্যবস্থার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। নিজের মেয়ে হত্যার বিচার চান না জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই। তিনি বলেন, আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে। রামিসা হত্যাকাণ্ডে মামলা করেছেন তার বাবা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি ধর্ষণহত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার সময়ে ঘরের একটি কক্ষে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রেখেছিলেন সোহেল। পরে মরদেহ টুকরা করে গুম করার প্রস্তুতির সময় রামিসার স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান সোহেল ও তার আরেক সঙ্গী। স্বপ্নাকে তাৎক্ষণিক আটক করে স্থানীয়রা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধধর্ষক ও শিশু হত্যাকারীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া নিয়ে ছুটতে হয় ঢাকায়