হাটহাজারীতে চাঞ্চল্যকর শিশু আফরিন আক্তারকে (১১) ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. ফয়সাল (১৯) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটায় হাটহাজারী থানার একটি টিম নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাধীন নিলক্ষী ইউনিয়নের টংকপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। সেখান থেকে তাকে হাটহাজারীতে আনা হয়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে প্রাপ্ত অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী থানার ওসি মো. জাহিদুল রহমান।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞসাবাদে সে জানায়, গত ২৬ মার্চ ধৃত আসামি মো. ফয়সাল হাটহাজারীর আমান বাজারের পূর্বপাশে অবস্থিত আল আমিনের ভাড়াকৃত তুলার গুদামের ভিতরে ভিক্টিম আফরিন আক্তারকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর আসামির বন্ধুও তাকে পুনরায় ধর্ষণ করতে চাইলে আফরিন চিৎকার করতে চাইলে ফয়সাল ও তার বন্ধু মিলে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ধারালো ছুরি ও ভোতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মুখমণ্ডল বিকৃত করে ফেলে এবং বাম চোখ উপড়ে ফেলে। পরবর্তীতে ভিক্টিমের লাশ তুলার গুদামের বস্তার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরিবার ভিক্টিমকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে আসামি নিজেও তাদের সাথে ভিক্টিমকে খোঁজাখুঁজির ভান করে। এক পর্যায়ে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির গহিন পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। সেখানে প্রায় দেড় মাস অবস্থান করে কিছুদিন আগে কুমিল্লা পালিয়ে যায়।
সবশেষ গত মঙ্গলবার নরসিংদী পালিয়ে গেলে গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। হাটহাজারী থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে মানিকছড়ির গহিন জঙ্গলে ও কুমিল্লায় বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছিল। সবশেষ দীর্ঘ ৭২ ঘণ্টা কুমিল্লা ও নরসিংদীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।










