রাতের আঁধারে কার্পেটিং, হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে পিচ

আধুনগর হরিণা সড়ক

লোহাগাড়া প্রতিনিধি | শনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ

লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর হরিণা সড়ক সংস্কারে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। সড়কের বৌদ্ধ মন্দির থেকে ঠাণ্ডা আমিনের ঘাটা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়েছে। তবে কাজ শেষ হওয়ার পরই এর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন করে করা কার্পেটিং হাত দিয়ে টানলেই উঠে আসছে। এ নিয়ে কার্পেটিং উঠে যাওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, আধুনগর হরিণা সড়কের বৌদ্ধ মন্দির থেকে ঠাণ্ডা আমিনের ঘাটা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ পেয়েছেন ঠিকাদার মোহাম্মদ আবু তোরাব। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সড়কের কিছু অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারে করা হয়েছে। ফলে কাজের সময় সংশ্লিষ্টদের যথাযথ তদারকি ছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে অংশে রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করা হয়েছে। সে অংশের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিংয়ের স্তর হাত দিয়ে টানলেই উঠে আসছে। এতে সংস্কার করা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুনরায় কাজ করার আগে সড়কের কার্পেটিংয়ের মান ও ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী যথাযথভাবে পরীক্ষা করা ও সরকারি অর্থে করা সংস্কারকাজ যাতে টেকসই হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারিও দরকার বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় মঈন উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত আধুনগর হরিণা সড়কের বাকি অংশের কাজ রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করা হয়েছে। সড়কের কাজে যথাযথভাবে মূল পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করা হয়নি। এ কারণে হাত দিয়ে টানলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান ও কাজের পরিমাণ পরীক্ষা করা।

আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, সড়কের যে অংশে রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে কাজ করা হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিটুমিন দেওয়া হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে হাতের টানেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মোহাম্মদ আবু তোরাবের মুঠোফোন থেকে জসিম উদ্দিন পরিচয়ে এক ব্যক্তি কথা বলেন। তিনি জানান, ঠিকাদার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় কথা বলতে পারছেন না। তার দাবি, সড়কে কার্পেটিং করার পর তা শক্ত হওয়ার জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। এর আগে হাত দিয়ে টানলে কার্পেটিং উঠে যেতে পারে। তবে সড়কের যে অংশে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেখানে পুনরায় কাজ করে দেওয়া হবে।

লোহাগাড়া এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদ হোসেন আজাদ জানান, খবর পেয়ে সড়কের ওই অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। ঠিকাদারকে ত্রুটিপূর্ণ অংশে পুনরায় কাজ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৬ কিমির কাজ শুরু হচ্ছে শীঘ্রই
পরবর্তী নিবন্ধনগরীর সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনার তাগিদ মেয়রের