চন্দনাইশে চলতি মৌসুমে ১৪০ হেক্টর জমিতে হয়েছে আখের চাষ, যা বিগত মৌসুমের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। অন্যান্য চাষাবাদের তুলনায় আখ চাষ অনেকটা সহজ এবং লাভ দ্বিগুণ হওয়ায় চন্দনাইশে আখ চাষের পরিধি বাড়ছে। একসময় চন্দনাইশের কৃষকরা স্থানীয় আঁশ জাতের আখ চাষ করলেও বর্তমানে বেড়েছে হাইব্রিড জাতের রংবিলাস আখের চাষাবাদ। আখ চাষে জড়িত কৃষকরা জানিয়েছেন, কানি প্রতি জমিতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ পড়ে। লাভ হয় দ্বিগুনেরও বেশি। যুগ যুগ ধরে চন্দনাইশের কৃষকরা ধান ও অন্যান্য মৌসুমী সবজি আবাদের পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে আখ চাষ করে আসছেন।
জানা গেছে, শঙ্খনদ তীরবর্তী উপজেলার সাতবাড়িয়া, হাশিমপুর, বৈলতলী, বরমা, বরকল, কাঞ্চনাবাদ, জোয়ারা, চন্দনাইশ পৌরসদর এলাকার হারলা, ধোপাছড়ি, দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর, জামিজুরী, জঙ্গল জামিজুরীসহ পুরো উপজেলাব্যাপী অসংখ্য কৃষক আখ চাষ করেছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ আখ চাষ হয় সাতবাড়িয়া, হাশিমপুর ও বৈলতলী ইউনিয়নে।
হাশিমপুর ইউনিয়নের সফল আখ চাষি আব্দুস সালাম জানান, প্রতি মৌসুমের ন্যায় চলতি মৌসুমেও তিনি দুই কানি (৮০ শতক) জমিতে রং বিলাস আখের চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এখন তার আখ ক্ষেত বিক্রির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। কেনার জন্য প্রতিদিনই আসছেন ক্রেতা। এ পর্যন্ত তার ২ কানি আখ ক্ষেতের দাম উঠেছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তিনি ৪ লাখ টাকা দাম পেলে ক্ষেত বিক্রি করে দিবেন। তিনি জানান, জানুয়ারি ফেব্রুয়ারির দিকে ক্ষেতে আখের বীজ রোপণ করেন। প্রায় ৮/৯ মাস পরিচর্যার পর বিক্রির উপযুক্ত হয় আখ। আখ ক্ষেতের মধ্যেই সাথী ফসল হিসেবে এবার তিনি বরবটি চাষ করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, আখ ক্ষেত নিয়ে তাদের তেমন কোনো বিড়ম্বনাও নাই। পাইকারি ব্যবসায়ীরা কানি হিসেবে পুরো ক্ষেত অগ্রিম কিনে সুবিধা মতো সময়ে আখ তুলে ট্রাকে করে চট্টগ্রাম নগরীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। ক্রেতারা আখ তুলে নিয়ে যাওয়ার পরপরই একই জমিতে মৌসুমী সবজি বরবটি, আলু ও অন্যান্য সবজি চাষাবাদ শুরু করেন তারা। সবজি শেষ হওয়ার পরপরই জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারির দিকে আবারো আখ চাষে নেমে পড়েন তারা।
আখ চাষে জড়িত কৃষকরা আরো জানান, তাদের চাষকৃত আখ নরম হওয়ায় সহজেই চিবিয়ে রস খাওয়া যায়। তাই চন্দনাইশে উৎপাদিত রং বিলাস আখের চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী। চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আজাদ হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে চন্দনাইশে আখের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। প্রতি বছরই আখের চাষাবাদ বাড়ছে এবং উৎপাদন ভালো হচ্ছে। লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অন্যান্য সবজির পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে আখ চাষ সহজ হওয়ায় এখানে আখ চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তিনি জানান, কৃষকরা যাতে কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয় তার জন্য মাঠ পর্যায়ে উপ–সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি সরকারিভাবে কৃষকদের প্রণোদনাসহ বিনামূল্যে সার ও কীটনাশক বিতরণ করা হয়।
কৃষকদের দেয়া তথ্যমতে, প্রতি কানি জমিতে গড়ে সাড়ে ৭ হাজার আখ চাষ হয়। তা গড়ে বিক্রি হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। ১ হেক্টর আখের মূল্য দাড়ায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সে হিসেবে ১৪০ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে চন্দনাইশে ৫ কোটি ২৫ হাজার টাকার আখ উৎপাদন হয়।
সাতবাড়িয়া এলাকার গণমাধ্যমকর্মী আজিমুশ–শানুল হক দস্তগীর জানান, আখ চাষের ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করেছে। আখ চাষে অনেক কৃষক এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন। পাইকাররা মাঠ পর্যায়ে এসে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আখ ক্রয় করে নেয়ায় কৃষকরা চিন্তামুক্ত থাকেন এবং লাভবান হন।













