‘রাজনৈতিক ফায়দার চেষ্টা’, জামায়াতের অভিযোগের জবাবে অর্থমন্ত্রী

| বুধবার , ১০ জুন, ২০২৬ at ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

নতুন চেয়ারম্যান ঘিরে আবার আলোচনায় আসা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে সরকার ও বিরোধী দল; বিতর্ক হয়েছে জাতীয় সংসদে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে জামায়াতে ইসলামী ব্যাংকটিকে পুনর্দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুললে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

দিন কয়েক ধরে শরিয়াহভিত্তিক এ ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের বড় অঙ্কের আমানত তুলে নেওয়ার খবরের প্রেক্ষাপটে সংসদে বিতর্কের শেষে সমাপনীতে অর্থমন্ত্রী বলেন, চেয়ারম্যানের কারণে গ্রাহক টাকা তুলে নেয়, এর কোনো নজির নেই। খবর বিডিনিউজের।

সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তার বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, একজন চেয়ারম্যানের মনোনয়নের কারণে কোনো ব্যাংকের গ্রাহক টাকা তুলে নিয়ে যাবে, এরকম নজির পৃথিবীর কোথাও নেই। গ্রাহক দেখে তার টাকা নিরাপদ কি না, সে টাকা ফেরত পাবে কি না। চেয়ারম্যান কে, সেটা তার বিবেচনার বিষয় না।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা বের হওয়ার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী জড়িত নয় বলে বিরোধীদলীয় নেতা যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, একই দাবি সালমান এফ রহমান বা এস আলমও করতে পারেন। কারণ তারা তো নিজের নামে কেউ টাকা নেয়নি।

তার ভাষ্য, বিগত নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে অবিশ্বাস্য রকমের টাকা খরচ হতে দেখা গেছে। এমন প্রার্থীরাও বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন, যাদের দৃশ্যমান আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন আছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আনআর্নড ইনকাম রাজনীতিতে ঢুকে পড়লে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।

তার দাবি, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে আন্দোলন, ব্যাংকের ভেতরেবাইরে বিক্ষোভ এবং আমানত প্রত্যাহারের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। যারা টাকা তুলে নিচ্ছে, তারা ইসলামী ব্যাংককে বিপদে ফেলতে চায়। এর পেছনে কিছু শক্তির হাত আছে।

বিরোধী দলের নোটিসে ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধির যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আমির খসরু বলেন, ইসলামী ব্যাংক বিপুল অঙ্কের প্রভিশন ডেফারেল সুবিধা নিয়েছে। ২০২৪ সালের শেষে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালের শেষে প্রায় ৮৪ হাজার কোটি টাকার প্রভিশন স্থগিত রাখার সুবিধা নেওয়া হয়েছিল। এসব হিসাব বিবেচনায় নিলে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটি প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে। এটা প্রফিট না, এটা উইন্ডো ড্রেসিং।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণ পোর্টফোলিওর প্রায় ৫১ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার যে দাবি তোলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আইনের অধীনে যেসব পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রাখে, সেগুলোই করছে। যেখানে তারা মনে করছে গ্রাহক, আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সেখানে হস্তক্ষেপ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নিয়ে সমালোচনারও জবাব দেন তিনি। অনেক দিন পর এমন একজন গভর্নর এসেছে, যিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। তাকে ঋণগ্রস্ত বলে সমালোচনা করা হচ্ছে। এই সংসদে ঋণগ্রস্ত নন, এমন কেউ আছেন? ব্যাংকই তো ঋণ দেওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, আর্থিক শৃঙ্খলা ছাড়া অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং বিএনপি সরকার এ বিষয়ে কোনো আপস করবে না। এ বিতর্কের ইতি টেনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টির ওপর আলোচনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বিরোধী দলীয় উপনেতার বক্তব্যটি ‘পয়েন্ট অব অর্ডারের’ আওতায় পড়ে না এবং এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা চালানোর সুযোগ নেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইসলামী ব্যাংক মানেই ইসলাম নয়, আগের সব হরিলুটের তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধনাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা শ্রমিক নিহত