রাঙ্গুনিয়ায় তৈলাভাঙা বিলের সড়ক ও বেড়িবাঁধ স্থায়ী সংস্কারের দাবি

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | বুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী তৈলাভাঙা বিল ও ওই এলাকার যোগাযোগ এবং কৃষিতে নেমে আসা দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সমপ্রতি পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় মিনা গাজীর টিলা থেকে পুরা টিলা সংযোগকারী সড়ক এবং শিলক খালের বেড়িবাঁধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই জনপদের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাবেদ হোসেন চৌধুরী জানান, মিনা গাজীর টিলা ও পুরা টিলার মধ্যবর্তী শিলক তৈলাভাঙা সড়কের দুই পাশে দুই শতাধিক পরিবার বসবাস করে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত কৃষক, তাদের পরিবার ও দিনমজুর শ্রমিক যাতায়াত করেন। কিন্তু বেহাল দশার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তাই এই দুই ওয়ার্ডের প্রায় দুই হাজার মানুষের দাবিদ্রুত রাস্তাটির জন্য বাজেট বরাদ্দ দিয়ে যেন স্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে এ আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে ‘শস্যভাণ্ডার’ খ্যাত শিলক তৈলাভাঙা বিলের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কৃষি অর্থনীতিতেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষায় নটুয়ারটিলা নতুন পাড়া এলাকার বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ও যোগাযোগের রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় পথচারী ও কৃষকদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিস্তীর্ণ কৃষি জমির ফসল নষ্ট হওয়া এবং সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। সরকারি বরাদ্দের জন্য বসে না থেকে স্থানীয়দের উদ্যোগে এবং প্রবাসীদের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমে বলদি গেড়ে ও বস্তায় মাটি ভরে প্রাথমিকভাবে বেড়িবাঁধ ও সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী নূর তালুকদার মনি জানান, তার উদ্যোগে পরিচালিত এই জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে এলাকাবাসীর মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এর ফলে তৈলাভাঙা বিলে কৃষিপণ্য পরিবহন ও সেচ সুবিধার দুশ্চিন্তা সাময়িকভাবে দূর হলেও স্থায়ী সমাধান অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তিনি আরও জানান, সমপ্রতি তৈলাভাঙা বিলের কৃষকদের সেচ ব্যবস্থা সুগম করতে একটি খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। যেটির সুফল এখন পেতে শুরু করেছেন কৃষকরা। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেড়িবাঁধের ধসে যাওয়া বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখেন।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, তৈলাভাঙা বিলের বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত এই সড়ক ও বেড়িবাঁধের স্থায়ী সংস্কার বাস্তবায়িত হবে আশ্বস্ত করেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধপুলিশের হানা পটিয়ায় দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাত দলের সদস্য গ্রেপ্তার