‘মানুষের মৃত্যু হয় কিছু কারণে–অকারণে, কিন্তু আমার মৃত্যু হবে একটা নারীর কারণে, তার ফ্যামিলির কারণে।’ মৃত্যুর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন নীরব ইমন নামে এক তরুণ। গতকাল সোমবার দুপুরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের হিলাগাজী পাড়া এলাকা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। তিনি ওই এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে।
নিহত ইমন জীবিকার তাগিদে প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তবে যাওয়ার আগে এমন মর্মান্তিক পরিণতি সবাইকে শোকে স্তব্ধ কর দিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মৃত্যুর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ফেসবুকে পর পর দুটি পোস্ট দেন ইমন। সর্বশেষ পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এক বছর ধরে এক তরুণীর সাথে তার সম্পর্ক ছিল। তিনি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় তরুণীর পরিবার তা মেনে নেয়নি। উল্টো পুলিশ এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও জোরপূর্বক ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে চরম হয়রানি ও শারীরিক–মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। পোস্টে তিনি তার মৃত্যুর জন্য ওই তরুণীর পরিবারসহ স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে দায়ী করেন।
প্রেমিকার উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, তুমি ভালো থেকো, তোমার কোনো দোষ নেই; সব দোষ তোমার ফ্যামিলির।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি জহির উদ্দিন জানান, কিছুদিন আগে ইমনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ উঠেছিল, যা পরবর্তীতে সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার পোস্টগুলো এবং উত্থাপিত অভিযোগসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।











