রাউজানে সোয়া কোটি টাকার ৪টি ব্রিজ এখন আবর্জনার ভাগাড়

মীর আসলাম, রাউজান | রবিবার , ৯ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

জনবসতি নেই, কার স্বার্থে ধানী জমির সাথে চারটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে এমন প্রশ্ন রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের। চৌমুহনী বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে কাপ্তাই সড়কের সাথে চারটি ব্রিজের উপরে নিচে এখন ময়লা আবর্জনার স্তূপ। এসব আবর্জনা পঁচে গলে এলাকায় ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। পরিত্যক্ত হয়ে থাকা চারটি ব্রিজ সম্পর্কে খবর নিয়ে জানা যায়, পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ব্রিজ চারটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ব্রিজ নির্মাণে তখন ব্যয় হয়েছে ২৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। চারটিতে ব্যয় ১ কোটি ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। গতকাল ৮ জুলাই ব্রিজ এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, কাপ্তাই সড়ক সংযোগে নির্মাণ করা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে আছে ফসলী জমি। ব্রিজগুলোর কাছে স্থাপন করা আছে চারটি ভিত্তিপ্রস্তর। এই চার ব্রিজের নাম দেয়া হয়েছে দক্ষিণ রাউজান খাদ্যগুদাম সড়ক বক্স কালভার্ট, দক্ষিণ রাউজান হাইওয়ে থানা সড়ক বক্স কালভার্ট, রাউজান রাঙ্গুনিয়া পুলিশ সার্কেল কার্যালয় কালভার্ট। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময়কাল ছিল ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ। এগুলো উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল ও বর্তমানে কারাবন্দি ওই সময়কালের সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী। দেখা যায়, নির্মিত ব্রিজগুলো একটি থেকে অপরটির দূরত্ব আনুমানিক দুই শত ফুটের মধ্যে। প্রতিটি ব্রিজ লম্বায় ৩০ ফুট, প্রস্থ ১৫ ফুট। গত প্রায় আট বছর ধরে ময়লাআবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া এসব ব্রিজ সম্পর্কে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ব্রিজের সাথে থাকা প্রায় শতাধিক একর জমিতে এলাকার মানুষ চাষাবাদ করে আসছেন। ওই সময় ক্ষমতাসীন রাজনীতিতে সক্রিয় প্রভাবশালীরা এলাকাবাসীর কাছে প্রচার করে সরকার ব্রিজের সাথে জমি ভরাট করে নানা স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করবে। সেই সময়কালে অনেকেই কৃষিজমিতে স্থাপনা করার বিরোধিতা করে আসলেও প্রভাবশালীদের হুমকি ধমকির মাঝে প্রতিবাদকারীদের অনেকেই চুপ হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা সড়ক পাশের মূল্যবান বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা ধানী জমিতে আবাসিক এলাকা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে সরকারি অর্থে ব্রিজগুলো করেছিল। স্থানীয়দের কাছে তাদের পরিকল্পনা গোপন করে প্রচার করেছিল জনস্বার্থে সরকারি স্থাপনা নির্মাণ করার কথা। ব্রিজ নির্মাণ কালে রাউজান উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্বপালনকারী (বর্তমানে হাটহাজারীতে কর্মরত) নিয়াজ মোরর্শেদের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, সেই সময়ে যারা ক্ষমতাসীন ছিলেন তাদের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। এ কাজের জন্য তখন ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ভূমি অংছিং মারমা জানান, তখন তিনি রাউজানে ছিলেন না। এই নিয়ে তার কাছে আর কোনো তথ্য নেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাসের চাকা ব্লাস্ট হয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, প্রাণ গেল হেলপারের
পরবর্তী নিবন্ধএ যাবৎকালের সূর্যের সেরা ছবি মিলল, সেইসঙ্গে এল নতুন রহস্য