‘যেকোনো মূল্যে’ ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ সফল করতে চান ফখরুল

| মঙ্গলবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ at ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ

ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর দলের বিভাগীয় সমাবেশে সর্বাত্মক অংশগ্রহণের জন্য পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুধু দেশের নয়, পৃথিবীর মানুষ এ সমাবেশের দিকে তাকিয়ে আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ সমাবেশকে আমাদের যেকেনো মূল্যে সফল করতে হবে, যেকোনো মূল্যে। ঢাকার সমাবেশ সফল করার জন্য আমাদের নেতৃবৃন্দরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, তারা মানুষের কাছে যাচ্ছে, প্রচণ্ড বাধা-বিপত্তি, ধরপাকড় শুরু হয়েছে- তাকে উপেক্ষা করে এই কাজগুলো করছে। গতকাল সোমবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পেশাজীবীদের একসভায় তিনি এসব কথা বলেন। খবর বিডিনিউজের।

ফখরুল বলেন, আমরা যেটা আশা করব- আমাদের যারা পেশাজীবী আছেন, বুদ্ধিজীবী আছেন, তাদের ওপরে মধ্যবিত্ত-উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণি অনেকটা নির্ভর করে, তাদের কথাবার্তার ওপরে বা তাদের কাজে। তাদের অংশগ্রহণ শুধু তাদের নয়, সবাইকে নিয়ে অংশগ্রহণ, এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে। বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীরা এদেশের মানুষের সঙ্গে আছেন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই কাজটা আমাদের পেশাজীবীরা বুদ্ধিজীবীরা বরাবর করেছেন। দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তারা সামনে এগিয়ে এসেছেন। আবারো তারা সামনে এগিয়ে আসবেন। দেশে ‘গণতন্ত্র ফিরে পেতে’ ১০ ডিসেম্বর ‘সফল শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশ’ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি এর আগে নয়টি সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ সফল হওয়ার কথা তুলে ধরেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গোটা বাংলাদেশ জেগে উঠেছে। আমাদের কর্মসূচির মধ্যে ছিল ১০টা বিভাগীয় গণসমাবেশ। ৯টি আমরা সফল করেছি, এদেশের মানুষ সফল করেছে শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে। নদী সাঁতরিয়ে পার হয়ে, ভেলাতে চড়ে, সাইকেলে চড়ে, ১০০ মাইল সাইকেলে চড়ে এসে চিড়া-মুড়ি-গুড় দিয়ে তিনরাত কাটিয়েছে তারা সমাবেশস্থলে। তাদের কারও চোখে ক্লান্তি ছিল না, কোনো কমপ্লেইন ছিলে না। শত কষ্ট করে খোলা আকাশের নিচে থেকে তাদের যে আকুতি গণতন্ত্রের জন্য, তাদের যে আকুতি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য সেই আকুতি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছে। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে পেশাজীবী নেতাদের নিয়ে এ সভা হয়। অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পেশাজীবীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।

পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন পেশাজীবী নেতা অধ্যাপক সদরুল আমিন, আ ন হ আখতার হোসেন, ফরহাদ হালিম ডোনার, এ কে এম আজিজুল হক, তাজমেরী এস ইসলাম, বিজন কান্তি সরকার, আবদুল কুদ্দুস, এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, মামুন আহমেদ, আবদুস সালাম, সেলিম ভুঁইয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, শামসুল আলম, রাশিদুল হাসান হারুন ও আশরাফউদ্দিন আহমেদ।

ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল নোমান, উপ সমন্বয়কারী আমানুল্লাহ আমান, আবদুস সালাম ও আবদুস সালাম আজাদ সমাবেশ আয়োজনের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন।

অন্য পেশাজীবীদের মধ্যে সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল লতিফ মাসুম, সিদ্দিকুর রহমান, গোলাম হাফিজ কেনেডি, কামরুল আহসান, এমতাজ হোসেন, এ কে এম রুহুল আমিন, সারোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম, মোর্শেদ হাসান খান, শাহনাজ সরকার রানু, ডা. রফিকুল ইসলাম, হাছিন আহমদে, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, পারভেজ রেজা কাকন, জয়নাল আবেদীন মেজবাহ, মোস্তাফিজুর রহমান, শামীমুর রহমান শামীম, আশরাফ উদ্দিন বকুল, কেয়া চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, জাকির হোসেন, ফখরুল আলম, জাহানারা বেগম, রুমিন ফারহানা উপস্থিত ছিলেন।