সাড়ে চার দশক আগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার চাকরিচ্যুত মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল সোমবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। এ ঘটনায় বেসামরিক আদালতে কোনো বিচার হয়নি। তবে ওই ঘটনায় চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করেছিল পুলিশ। সেই মামলার ছয় নম্বর আসামি ছিলেন মেজর মোজাফফর। এজাহারে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতির কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।
পরে সেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিলের জন্য আদালতের কাছ থেকে ১৭৩ বার সময় নেয় থানা পুলিশ ও সিআইডি। শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালে ২৪ অক্টোবর সিআইডি মামলার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থতা স্বীকার করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এর মধ্যে গত ১৫ জুলাই রাতে বনানী ডিওএইচএস থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল সোমবার সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, চট্টগ্রামের সেই মামলাটি এখন পুনজ্জীবিত করা হবে কি না? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, একই ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুই আইনে আলাদা আলাদাভাবে ট্রায়াল করা যায় না। এখানে মিলিটারি অ্যাক্ট প্রযোজ্য এবং কো অ্যাকিউসদের বিষয়ে ট্রায়াল হয়েছে, সেটা সেনা আইনে হয়েছে জেনারেল কোর্ট মার্শাল হয়েছে। সে ঘটনার একই ব্যক্তি পলাতক ছিলেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আমরা সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছি। তারা তাদের বিধি মোতাবেক জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠন করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। সিআইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি প্রমাণ করতে না পারার কারণ হিসেবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সাক্ষী ও প্রমাণের অভাবের কথা লিখেছিলেন, যা গ্রহণ করে আদালত। পরে বাদী নারাজি না দেওয়ায় সেই মামলাটি আর পুনঃতদন্তের জন্য পাঠানো হয়নি।
মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে প্রায়ই বাংলাদেশি হতাহতের খবর শোনা যায়। এ বিষয়ে দৃস্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, ল্যান্ডমাইন ডিটেকশনের জন্য কিছু যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে বিজিবির কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা সেটা নিয়ে সেটা কাজ করছে। মিয়ানমার ও ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্তটা আমাদের জন্য এখন খুবই বার্নারেবল। বিভিন্ন কারণে সেটার সাথে অন্য দেশের (ভারত) কাঁটাতার নির্মাণের বিষয়টা একটু ডিফারেন্ট। মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সরকারের সবসময় যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সালাহউদ্দিন বলেন, ওখানে আরো কিছু বিদ্রোহী গ্রুপ আছে–আরএসও, আরসা, আরাকান আর্মি, আরো বিভিন্ন সংগঠন আছে। তাদের অভ্যন্তরীণ অনেক সময় অনেক সংঘর্ষ হয়। তাছাড়া মাদক চোরাকারবারি তো আছেই।












