বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চমক জাগানো কেপ ভার্দে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা আফ্রিকার দলটি গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচই ড্র করে তৃতীয় সেরা দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ জিতে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত থেকেই শেষ বত্রিশে উঠেছে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৪টায় ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেনসের হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। কাগজে–কলমে আর্জেন্টিনা স্পষ্ট ফেভারিট হলেও কেপ ভার্দের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ তাদের জন্য সহজ চ্যালেঞ্জ হবে না।
ম্যাচ ঘিরে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের আবহে রঙিন হয়ে উঠেছে মায়ামি। বিশেষ করে সাউথ বিচ ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভিড় চোখে পড়ছে। ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সুবাদে শহরটিতে মেসির জনপ্রিয়তাও বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করেছে। হার্ড রক স্টেডিয়ামেও আর্জেন্টিনার বিপুলসংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, সমুদ্রসৈকত ও ফ্যান জোনে আর্জেন্টিনার আকাশি–সাদা জার্সি পরা সমর্থকদের সরব উপস্থিতি ম্যাচের আগেই উৎসবের আবহ তৈরি করেছে। মেসি ও দিয়েগো ম্যারাডোনার ছবি–সংবলিত পতাকা হাতে গান গেয়ে দলকে উৎসাহ দিতে দেখা গেছে তাদের। অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ দেখতেই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। ফলে মাঠের বাইরে সমর্থকদের উপস্থিতিতেও আর্জেন্টিনা স্পষ্ট সুবিধা পেতে পারে। রঙিন মায়ামি তৈরি মেসি, ম্যারাডোনা ও আর্জেন্টিনা মহোৎসবের জন্য!
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩–১ গোলে হারানোর পর দারুণ ছন্দে আছে আর্জেন্টিনা। কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি তাদের শেষ ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া খেলোয়াড়দের এই ম্যাচে মূল একাদশে ফিরিয়ে আনবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লিওনেল মেসি, ম্যাক অ্যালিস্টার, রদ্রিগো ডি পলরা প্রথম থেকেই মাঠে থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সেন্টার–ব্যাক ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর ফিটনেস নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। গ্রুপ পর্বে আট গোল করে মাত্র একটি গোল হজম করেছে লিওনেল স্ক্যালোনির দল। মেসির পাশাপাশি লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার ও ডি পলের সমন্বয়ে আর্জেন্টিনা আক্রমণ ও মাঝমাঠে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে।
অন্যদিকে কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণ। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে তারা। নিজেদের অর্ধে অনেক খেলোয়াড় রেখে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠাই তাদের মূল কৌশল। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরছেন সাইদ ক্যাব্রাল। তবে জোভান ক্যাব্রালের খেলা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। সৃজনশীল মিডফিল্ডার তেলমো আরকানহো চোটের কারণে নেই।
এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে কেপ ভার্দের লো–ব্লক রক্ষণ ভাঙা। বলের দখল সম্ভবত মেসিদের কাছেই থাকবে। তবে সেই আধিপত্যকে গোলের সুযোগে রূপ দেওয়া এবং বল হারানোর পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ঠেকানোই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। মেসির সৃজনশীলতা, মাঝমাঠের দ্রুত পাস আদান–প্রদান এবং স্ট্রাইকারদের ফিনিশিং ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কেপ ভার্দের জন্য এটি ইতিহাস গড়ার আরও একটি সুযোগ। বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেই তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। তাই হারানোর চাপ তাদের তুলনামূলক কম। এই নির্ভার মানসিকতাই দলটিকে বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ করে তুলতে পারে। বিশ্বকাপে ছোট দলের অঘটনের নজিরও নতুন নয়। তাই কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই আর্জেন্টিনার।
দুই দলের এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক মুখোমুখি। কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোস মারিয়া নেভেস নিজের দলের ১–০ গোলের জয়ের পূর্বাভাস দিলেও অধিকাংশ বিশ্লেষক এগিয়ে রাখছেন আর্জেন্টিনাকেই। তবে নকআউট পর্বে ভুলের সুযোগ থাকে না।












