চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল দুপুরে টাইগারপাসস্থ নগর ভবনে মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্যিক প্রতিনিধিসহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মশকনিধন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, মশকনিধনে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত, পরিবেশসম্মত ও কার্যকর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর দেশের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা আমাদের কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।
বৈঠকে অংশ নেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট, ইউএস কমার্শিয়াল সার্ভিসের কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট মাশহুর আলম শেঠ এবং হোটেল আগ্রাবাদ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের গ্রুপ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইরাদ আলী। বৈঠকে নগরের মশকনিধন কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সমপ্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। নগরের বাণিজ্যিক সমপ্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। এছাড়া নগর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাব্য প্রয়োগ এবং চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
ডা. শাহাদাত বলেন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে শুধু মশা নিধন করলেই হবে না, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নজরদারি এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে বিটিআই ব্যবহার করছে। আমরা চাই বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে।
ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রাম একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও দ্রুত সমপ্রসারণশীল নগরী। এখানে জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিতভাবে জমে থাকা পানি, নির্মাণাধীন স্থাপনা এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার কারণে মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং এলাকাভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে মশকনিধন কার্যক্রমে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরনগরী নয়, এটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বন্দর, শিল্পকারখানা, ব্যবসা–বাণিজ্য এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর কারণে চট্টগ্রামের বিশেষ অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশি–বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চাই। বিশেষ করে নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
প্রতিনিধি দলটি মশকনিধনে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তুলে ধরে ‘বিটিআই ডাঙ্কস’ ও ‘বিটিআই বিটস’ নিয়ে কথা বলেন। তারা জানায়, বিটিআই নামের প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক এসব জৈব লার্ভিসাইড জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা ধ্বংস করতে কার্যকর। এর মধ্যে ‘বিটিআই ডাঙ্কস’ পানিতে ধীরে ধীরে কার্যকর উপাদান ছাড়ে এবং দীর্ঘ সময় মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়া ‘বিটিআই বিটস’ দানাদার হওয়ায় ছোট ছোট জলাধার ও মশার প্রজননস্থলে সহজে প্রয়োগ করা যায়। নির্ধারিত নিয়মে ব্যবহার করলে এসব উপাদান মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।












