হতাশাময় দিনের শেষ ভাগে লড়াইয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে প্রথম সেশনে ছিল ভয়াবহ ব্যাটিং ধস। দ্বিতীয় সেশনে ছিল জন ক্যাম্পবেলের ব্যাটের দাপট। বাংলাদেশ হয়ে পড়েছিল কোণঠাসা। শেষ সেশনে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে শান্তর এক দারুণ ক্যাচে ক্যাম্পবেলের বিদায় ঘটে। পরে তাইজুল ইসলামের জোড়া ছোবলে স্বস্তি ফিরে আসে বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমে।
শক্ত অবস্থানে থেকে দিন শুরু করা বাংলাদেশ এ দিন ৫১ রানের মধ্যে হারায় নিজেদের শেষ ৭ উইকেট। ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শুরু করা সাদমান ইসলাম প্রত্যাশিত সেঞ্চুরিটি পেয়ে যান। কিন্তু ৪০০ রানের আশায় থাকা দল গুটিয়ে যায় ২৭২ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বৃহস্পতিবার দিন শেষ করে ৪ উইকেটে ১৩৪ রানে। ১৩৮ রানে পিছিয়ে তারা।
এক রানের জন্য সাদমানের এক রাতের অপেক্ষা শেষ হয় সকালেই। দিনের দ্বিতীয় বলেই দুই রান নিয়ে শতরানে পৌঁছে যান তিনি। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি এটি, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম। আগের দুটি সেঞ্চুরিই করেছিলেন তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। গোটা দিনে বাংলাদেশের সুসময়ের সমাপ্তি সেখানেই।
আলসে ব্যাটিংয়ে সাদমান উইকেট হারান ১০৫ রানে। প্রথম টেস্ট উইকেটের স্বাদ পান জশুয়া বিশপ। অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার পরের ওভারেই আরেকটি ধাক্কা দেন বাংলাদেশকে। ৪২ রানে ক্র্যাম্প নিয়ে আগের দিন মাঠ ছেড়ে যাওয়া তাওহিদ হৃদয় নতুন দিনে ফিরে একটি রানও যোগ করতে পারেননি। বাজে এক শটে বোল্ড হন ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। স্লগ করার চেষ্টা করলেও তার পা, মাথা, ব্যাটের অবস্থান ছিল এলোমেলো।
বিপদটা পুরোপুরি বোঝা যায়নি তখন। লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের জুটি জমে উঠতে শুরু করে। দ্বিতীয় নতুন বলে প্রথম ৯ ওভার নিরাপদে পার করেন তারা। কিন্তু শামার জোসেফ ও জোমেল ওয়ারিক্যানের যুগলবন্দিতে ধসে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। ওয়ারিক্যানের ড্রিফটে বিভ্রান্ত মিরাজ বোল্ড হন ১৫ রানে।
জোসেফের ছোবলে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি নাঈম হাসান ও হাসান মাহমুদও। এরপর তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে টানা দুই বলে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ওয়ারিক্যান। টেস্টে এই স্বাদ পেলেন তিনি তৃতীয়বার। ১৯ রানের মধ্যে বাংলাদেশ হারায় শেষ ৫ উইকেট। হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বলে আঙুলে চোট পাওয়া লিটন ব্যাটিং চালিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে।
বোলিং সাফল্যের রেশ নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্যারিবিয়ানরা প্রথম তিন ওভারেই বাউন্ডারি মারেন পাঁচটি। এর মধ্যেই অবশ্য আউট হতে পারতেন ক্যাম্পবেল। হাসানের বলে ৫ রানে পয়েন্টে তার ক্যাচ ছাড়েন নাঈম। সেই হাসানই এনে দেন প্রথম ব্রেক থ্রু। অফ স্টাম্প ঘেঁষা ডেলিভারিতে কিপারের হাতে ধরা পড়েন ব্র্যান্ডন কিং। ব্যাটিংয়ের সময় লিটন চোট পাওয়ায় কিপিং করেন জাকের আলি। অবশ্য সেই ধাক্কা সামলে পাল্টা আক্রমণে বাংলদেশকেই চাপে ফেলে দেন ক্যাম্পবেল। পেসারদের নিরাপদে পার করেন তিনি, তাইজুলকে বোলিংয়ে স্বাগত জানান চার ও ছক্কায়। টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন তিনি মিরাজকেও।
রান বাড়তে থাকে তরতরিয়ে। ১ উইকেটে ৮৯ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় তারা। বৃষ্টি আর আলোকস্বল্পতা মিলিয়ে সেই বিরতি দীর্ঘায়িত হয় একটু। বিরতির পর বদলে যায় খেলার মোড়। ব্রেক থ্রু আসে মিরাজের হাত ধরে, সেখানে সমান অবদান শান্তরও। ক্যাম্পবেল ফিরলেন ৫৪ রানে। এরপর তাইজুলকে কিছু একটা করতেই হতো। দেশের সফলতম বোলার এক ওভারেই ফেরান কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গুকে।
৭ রানের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারায় ৩ উইকেট। স্পিনারদের ফাঁস সামলে বাকি সময়টা পার করে দেন তেজনারাইন চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রেভস। স্বভাবজাত ব্যাটিংয়ে ১৪৫ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন চন্দরপল। বাংলাদেশের তাইজুল ২টি এবং মিরাজ ও হাসান ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।












