ভিনিসিউসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করে নকআউটে গেছে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে শুরুতেই দলকে এগিয়ে নেন ভিনিসিউস জুনিয়র। দারুণ ছন্দে থাকা ভিনি পরে গোল করলেন আরেকটি। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে নামেন নেইমার। ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শেষ হওয়া ম্যাচটি ৩–০ গোলে জিতেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। তাদের অন্য গোলদাতা মাতেউস কুনহা।
তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে ব্রাজিল। একই সময়ে গ্রুপের আরেক ম্যাচে হাইতিকে ৪–২ গোলে হারানো মরক্কোরও ৭ পয়েন্ট, গোল পার্থক্যে দুই নম্বরে থেকে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দলটি। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে স্কটল্যান্ড। তিন ম্যাচেই হেরে বিদায় নেয় হাইতি। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুটি দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় দল নিয়ে হবে নকআউটের প্রথম ধাপ– রাউন্ড অব ৩২। এই আট দলের একটি হওয়ার সম্ভাবনা টিকে থাকল স্কটল্যান্ডের।
প্রথম দুই ম্যাচের চেয়ে এ ম্যাচে ব্রাজিলের খেলায় উন্নতি দেখা গেছে। ৫৪ শতাংশ বল দখলে রেখে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ২১টি শট নেয়, যার মধ্যে ৯টি লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড ১৪টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। প্রতিপক্ষের মারাত্মক ভুলের সুযোগে সপ্তম মিনিটেই ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন ভিনিসিউস। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করা ব্রাজিলের পঞ্চম খেলোয়াড় হন। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন জাইরজিনিয়ো (১৯৭০), রোমারিও (১৯৯৪), রোনালদো ও রিভালদো (২০০২)। ওই চারজনের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল।
২২তম মিনিটে স্কটল্যান্ডের আরেকটি ভুলে ভিনিসিউস আবার বল জালে পাঠিয়ে উদযাপন করেন। তবে ভিএআরে মনিটরে দেখে গোল বাতিল করেন রেফারি। স্কটল্যান্ডের জ্যাক হেনড্রির কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার সময় তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছিলেন ভিনিসিউস, ফলে সেটি ফাউল ধরা হয়। এরপর আক্রমণ–পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে দুই দলের মধ্যে। তবে কেউই বঙে গিয়ে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। ৩৮তম মিনিটে বঙের বাইরে থেকে উড়িয়ে মারেন হায়ান। চার মিনিট পর মাতেউস কুইয়াও বঙের বাইরে থেকে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় ব্রাজিল। ডান দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে ভিনিসিউসের কাট–ব্যাকে কুইয়ার প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার হেনড্রি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিউস। ব্রুনো গিমারেসের ক্রস এগিয়ে গিয়ে লাফিয়ে ক্লিয়ারের চেষ্টায় বলের নাগাল পাননি স্কটিশ গোলরক্ষক। দূরের পোস্টে হেডে ফাঁকা জালে বল পাঠান ভিনিসিউস। এবারের বিশ্বকাপে তার গোল হলো চারটি। একটু পর আবার গোল পেতে পারত ব্রাজিল। এবার বঙের ভেতর থেকে হায়ানের শট এগিয়ে এসে দারুণ দক্ষতায় ব্যর্থ করে দেন স্কটল্যান্ড গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামেননি স্কটল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন। তার জায়গায় নামেন কিয়েরান টিয়ারনি। ৪৯তম মিনিটে প্রথম কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্যে রাখতে পারে স্কটল্যান্ড। তবে স্কট ম্যাকটমিনের হেডে বল যায় সরাসরি গোলরক্ষক আলিসনের গ্লাভসে। দুই মিনিট পর হ্যাটট্রিকের সুযোগ পান ভিনিসিউস। দ্রুতগতিতে বল নিয়ে বঙে ঢুকে পড়েন তিনি, কিন্তু ঠিকমতো শট নিতে পারেননি, তার আগেই ছুটে এসে বল ধরে ফেলেন গোলরক্ষক। স্কটল্যান্ডের দুটি পেনাল্টির আবেদন রেফারি নাকচ করে দেওয়ার পর, ৬০তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩–০ করে ফেলে ব্রাজিল। পাশে থাকা স্কটল্যান্ডের এক খেলোয়াড়কে ছিটকে ফেলে, আরেকজনকে কাটিয়ে গিমারেস বঙে খুঁজে নেন কুইয়াকে। এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ৬৫তম মিনিটে প্রথমবার আলিসনের কঠিন পরীক্ষা নিতে পারে স্কটল্যান্ড। ম্যাকটমিনের আরেকটি হেড ফিরিয়ে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক।
৭৬তম মিনিটে দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্য কুইয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের হয়ে খেলতে নামলেন দলটির রেকর্ড গোলস্কোরার। চার মিনিট পর আরেকবার হ্যাটট্রিকের সুযোগ আসে ভিনিসিউসের সামনে। এবারও তার শট ফিরিয়ে তাকে হতাশ করেন স্কটিশ গোলরক্ষক। শেষ দিকে ব্যবধান কমানোর আরেকটি সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড। দারুণ সেভে ম্যাকটমিনের আরেকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন আলিসন।











