নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রের পানিতে নিজে নিজে নেমে ডুব দিয়েছিলেন স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিন। এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন তিনজন ব্যাংকার। যারা উক্ত বিষয়ে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। ৯ বছর আগে চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করা তাসফিয়া আমিনের মৃত্যুটি ছিল একটি আত্মহত্যা ঘটনা–ই– ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাটির পঞ্চম তদন্তেও মিলেছে এমন তথ্য। নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) ও তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন চৌধুরী গত ১১ জুন এ মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এতে মামলার ৬ আসামির অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়।
এদিকে গতকাল চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকের আদালত উক্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে মামলাটি নথিজাতের আদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আসামিদেরকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
আদালতে থাকা নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার আরও নুরুল আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বাদীপক্ষ নারাজি পিটিশন দাখিলের জন্য সময় চেয়েছিলেন। আদালত তা মঞ্জুরও করেন। কিন্তু পরে আর বাদী পক্ষ নারাজি পিটিশন দাখিল করেন নি। সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আদালত তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন এবং মামলাটি নথিজাত করার নির্দেশ দেন।
তাসফিয়া আমিনের মৃত্যুর পর তার বাবার দায়ের করা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেছিলেন থানা পুলিশ, এরপর ডিবি, পিবিআই ও সিআইডি। পুলিশ, ডিবি, পিবিআইয়ের ন্যায় গত বছরের ৩০ জানুয়ারি সিআইডিও তাসফিয়া আমিনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন। তখন বাদীপক্ষ নারাজি পিটিশন দাখিল করলে আদালত একজন এএসপি বা এসপি পদমর্যাদার কাউকে দিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই হিসেবে তাসফিয়া আমিন হত্যা মামলাটির পঞ্চম তদন্তের দায়িত্ব এসে পড়ে সহকারী কমিশনার জামাল উদ্দিন চৌধুরীর উপর।
আদালতসূত্র জানায়, তাসফিয়া আমিন হত্যা মামলাটি আদালত কর্তৃক ৫ বার তদন্তের আদেশ দেন। এসব তদন্তের সময় মোট ৮ জন অফিসার মামলাটি তদন্ত করেন। সেই হিসেবে সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা হচ্ছেন সহকারী কমিশনার জামাল উদ্দিন চৌধুরী। তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সব রকম তদারকি করেছি। এসব তদারকিতে আত্মহত্যা ছাড়া অন্য কোন বিষয় উঠে আসেনি। আসলে এটি একটি আত্মহত্যা ঘটনা–ই ছিল। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তিনজন ব্যাংকার। তারা দেখেছেন যে, তাসফিয়া নিজে নিজে সমুদ্রের পানিতে নেমেছিলেন। ২০১৭ সালের ১ মে নগরীর গোলপাহাড় মোড় থেকে সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে বাসায় যাওয়ার কথা থাকলেও পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় চলে যায় নগরীর একটি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া আমিন। পরদিন সৈকত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর তাসফিয়ার বাবা মো. আমিন বাদী হয়ে নগরীর পতেঙ্গা থানায় ৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন– মেয়ের বন্ধু আদনান মির্জা, মো. সোহাইল, শওকত মিরাজ, আসিফ মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও মো. ফিরোজ। এদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে তারা জামিন নেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার দিন কাউকে না বলে বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধু আদনান মির্জার সঙ্গে গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল নামের একটি রেস্টুরেন্টে যায় তাসফিয়া। সেখান থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে বের হয়ে একা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন তিনি। এর পর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে তার লাশ পাওয়া যায়।












