রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় গত শনিবার থেকে গতকাল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা বাসিন্দাদের নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার জন্য মাইকিং করে আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। গতকাল রোববার বিকালে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের কর্মকর্তারা যৌথভাবে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করেন। একইদিন রাতে রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রাঙামাটি সদর, পৌরসভার ভেদভেদী পশ্চিম মুসলিম পাড়া, শিমুলতলী এবং রুপনগর এলাকার বিভিন্নস্থানে সতর্কতামূলক মাইকিং কার্যক্রম চালানো হয়। এসময় জনগণকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করা, ভারী বর্ষণের সময় নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) শেখ সালমান বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা বাসিন্দাদের নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। শহরের রূপনগর, শিমুলতলী ও মুসলিম পাড়া এলাকায় মাইকিং করা হয়।
রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক ক্য চি নু মারমা বলেন, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত গেল ২৪ ঘণ্টায় রাঙামাটিতে ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আজকে (রোববার) সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটি জেলায় ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় ৫ সেনাসদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর পরের বছর ২০১৮ সালে জেলার নানিয়ারচরের পাহাড় ধসে ১১ জনের মৃত্যু। এছাড়া বিগত বছরগুলোতেও পার্বত্য চট্টগ্রাম ক্রমাগত পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটছেই। নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসতি গড়ার কারণেই পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলছেন বিশিষ্টজনরা।










