দেশজুড়ে আকাশপথের যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আটটি স্টলপোর্টকে (স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন ও অবতরণ উপযোগী বিমানঘাঁটি) অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার আওতায় আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করার বিষয়টি জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা–৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু তালেব মণ্ডল এবং চট্টগ্রাম–১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের পৃথক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। খবর বিডিনিউজের।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে সরকার দেশব্যাপী একটি ‘ন্যাশনাল এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে। এ অঙ্গীকারের আওতায় প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহর এবং পর্যায়ক্রমে জেলা শহরগুলোকে সংযুক্ত করতে ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ নির্মাণ করা হবে। তিনি জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বগুড়া, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, পাবনার ঈশ্বরদী, মৌলভীবাজারের শমশেরনগর, বাগেরহাটের খানজাহান আলী, কুমিল্লা ও পটুয়াখালীর স্টলপোর্টকে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিস্তারিত সমীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ঈশ্বরদী বিমানবন্দর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা জানতে চাওয়া প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বিমানবন্দরটির অতীত কার্যক্রমের তথ্যও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৭ সালের মধ্যে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ৪৩৬ দশমিক ৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) সেখানে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এফ–২৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ঈশ্বরদীতে প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা করে। তবে বাণিজ্যিক কারণে ১৯৮৭ সালে সেই সেবা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৯৪ সালে ঢাকা–রাজশাহী–ঈশ্বরদী রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু হলেও যাত্রীসংকটের কারণে ১৯৯৬ সালে তা আবার বন্ধ করা হয়। সর্বশেষ ২০১৩–১৪ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল বলে সংসদকে জানান মন্ত্রী।
আরেক প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বলেন, গত ১৫ বছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মোট নয়টি উড়োজাহাজ কিনে বহরে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে দুটি বোয়িং ৭৮৭–৯ উড়োজাহাজ; ২০২০ ও ২০২১ সালে পাঁচটি ড্যাশ–৮–৪০০ এবং ২০২১ সালে দুটি বোয়িং ৭৩৭–৮০০ উড়োজাহাজ কেনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বিমানের ‘ফ্লিট এঙপ্যানশন প্ল্যান ২০২৬–২০৩৫’ অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে বহরে ৪৭টি উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।












