বিপিসি প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তাব ঘিরে নতুন বিতর্ক

চেয়ারম্যানের চিঠি, ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২৫ জুন, ২০২৬ at ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান সংস্থার প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে ব্যবসায়ী মহলসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানায়, গত ২৯ মে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতারা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামেই থাকবে বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু এরপর ১৭ জুন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিপিসি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি খাতের কার্যক্রম বিস্তৃত হওয়ায় ঢাকা থেকে এসব কার্যক্রমের তদারকি, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করতে হলে বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে। এ অবস্থায় চট্টগ্রামকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী মহল প্রশ্ন তুলেছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসের পরও কেন প্রধান কার্যালয় সরানোর পক্ষে মত দেওয়া হলো। তাদের মতে, বিপিসির মূল অবকাঠামো, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং অধিকাংশ সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কার্যক্রম চট্টগ্রামকে ঘিরেই পরিচালিত হয়। ফলে প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তর করা হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে পারে। জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বিপিসির অধীনস্থ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই চট্টগ্রামে অবস্থিত। ডিজিটাল প্রশাসন, অনলাইন সভা এবং ইনথি ব্যবস্থার যুগে কেবল প্রশাসনিক সুবিধার যুক্তিতে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা দুর্বল। বরং এতে ঢাকার ওপর আরও প্রশাসনিক চাপ বাড়বে এবং কার্যক্রমের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা বলেন, চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অতীতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় সেখানে স্থাপন করা হয়েছিল। বিপিসিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তারা মনে করেন, ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক সুবিধার কারণে কেন্দ্রীয় কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে খর্ব করতে পারে। তারা বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে সরানো কোনোভাবেই ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগ্রেপ্তারের পরদিন চট্টগ্রাম কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধ৩১০ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে চসিক