বাবার পিছু নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছিল পাঁচ বছরের শিশু ফাতেমা। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পথ হারিয়ে ফেলে সে। বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় দীর্ঘক্ষণ কান্নাকাটি করার পর এক পথচারীর সহায়তায় সে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানায়। পরে পুলিশের উদ্যোগে পরিবারের সন্ধান মিললে প্রায় এক দিন পর বাবা-মায়ের কোলে ফিরে আসে শিশুটি।
পুলিশ সূত্র জানায়, ফাতেমা পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার একটি এলাকায় বসবাস করে। গত ২৩ জুলাই ২০২৪ পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে মা-বাবার মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তার বাবা বাসা থেকে বের হয়ে যান। বাবাকে ফিরিয়ে আনতে ফাতেমাও চুপিসারে তাঁর পেছনে বেরিয়ে পড়ে। কিছু দূর যাওয়ার পর বাবাকে আর দেখতে না পেয়ে পথ হারিয়ে ফেলে সে।
হাঁটতে হাঁটতে একসময় ফাতেমা কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকার সতীশ বাবু লেনে চলে আসে। তখন বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল। ভিজে একপর্যায়ে সে কান্না শুরু করলে পথচারী সায়েম নামের এক ব্যক্তি শিশুটিকে কোতোয়ালী থানায় নিয়ে যান।
থানায় আনার সময় শিশুটি পুরোপুরি বৃষ্টিতে ভিজে ছিল। ঠান্ডায় কাঁপছিল এবং নাক ও চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল। পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে শুকনা কাপড়ের ব্যবস্থা করে এবং প্রয়োজনীয় সেবা-যত্ন দেয়। তবে নিজের নাম ও বাবা-মায়ের পরিচয়ির পুলিশ কমিশনার কোতোয়ালী থানায় গিয়ে শিশুটির সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তাঁর নির্দেশে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সব থানায় এবং সিএমপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে শিশুটির ছবি ও পরিচয়সহেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার স্বজনেরা। কোতোয়ালী থানা সম্পর্কে খুব সীমিত তথ্য দিতে পারায় পরিবারের সন্ধান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এ সময় সিএমপির পুলিশ কমিশনার কোতোয়ালী থানায় গিয়ে শিশুটির সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তাঁর নির্দেশে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সব থানায় এবং সিএমপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে শিশুটির ছবি ও পরিচয়সহ সন্ধান চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
এরই মধ্যে ফাতেমার পরিবার বাকলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। পরে তারা কোতোয়ালী থানায় গিয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ফাতেমাকে নিজেদের জিম্মায় গ্রহণ করে।
শিশুটিকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার স্বজনেরা। কোতোয়ালী থানা পুলিশের সদস্যরাও শিশুটিকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পুলিশ বলছে, শিশু নিখোঁজের ঘটনায় দ্রুত থানায় সাধারণ ডায়েরি করা এবং তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হলে এমন ঘটনায় শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।












