সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। একইসাথে ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডের ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, আহতদের চিকিৎসা ব্যয় মালিকপক্ষ নির্বাহ করা, নিহতদের পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন এবং জাহাজ ভাঙা শিল্পে নূন্যতম মজুরি ২২ হাজার টাকার গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে স্কপ।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্কপ চট্টগ্রাম শাখা এ দাবি জানায়।
গত ১৪ অগাস্ট সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিতে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণে নয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরে গত বুধবার আহত আরেক শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় গঠিত সরকারি দুটি তদন্ত কমিটি ও একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্কপের চট্টগ্রাম জেলা যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল। এতে বলা হয়, পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে শ্রমিকরা ইয়ার্ডে কাজ করতে আসেন। কর্মক্ষেত্রে একজন শ্রমিকের মৃত্যুও মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায় মালিকপক্ষের। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকের জীবনের ঝুঁকি নিরসনের দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলেও মন্তব্য করা হয়।
বিগত বছরগুলোতে একটি শিপ ইয়ার্ডে একসঙ্গে এত শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেনি বলে উল্লেখ করে স্কপ নেতা শিমুল বলেন, দুঃখজনক হল যে হংকং কনভেনশন বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হওয়ার এক বছর পর সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় মালিকপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। একাধিক সরকারি দপ্তর কিভাবে জাহাজটি কাটার অনুমতি দিয়েছিল, এ প্রশ্ন তুলে সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তে তা জানা যাবে। এক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি, কর্মকর্তা ও দপ্তরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়বাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, শুক্রবার তারা ইয়ার্ড খুলতেই পারে না। হাই কোর্টের একটা নির্দেশ আছে রাতে এবং শুক্রবার ইয়ার্ড চালাতে পারবে না। তারা শুক্রবারে কাজ চালিয়েছে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত বলেন, এটা যদি বারবার হতে থাকে ইলিশ মাছ ধ্বংসকারী, প্রকৃতি পরিবেশ ধ্বংসকারী এই ইয়ার্ডের প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশে আছে কিনা সেটাও আমি প্রশ্ন তুলি। বড়জোর ১০ হাজার কর্মসংস্থান হয় এখানে। দেড় লক্ষ জেলে কক্সবাজার থেকে মীরসরাই পর্যন্ত বাস করে। এদের জালে ইলিশ এখন নাই। কদাচিৎ পড়ে। কিছু মালিকের মুনাফার যন্ত্র হিসেবে আছে এই শিল্প। একটা মালিকেরও কোনোদিন শাস্তি হয়েছে? সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতন এবং মো. খোরশেদ আলম।












