এক্সিলারেটরের টার্মিনাল থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ

নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে এলো এলএনজিবাহী কার্গো, সংকট কমার আশা

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ২৩ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই গতকাল দুপুরে এলএনজিবাহী কার্গো নোঙর করেছে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে। এরপর দুপুরে আগের কার্গো থেকে তিন দিন পর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। গতকাল দুপুর দুইটা থেকে এই টার্মিনাল থেকে ন্যাশনাল গ্রিডে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে সামিটের টার্মিনালটি থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট মিলে ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ন্যাশনাল গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। গত রাত ১০টা থেকে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে সরবরাহ কিছুটা বাড়িয়ে সামিটের টার্মিনাল থেকে কিছু কমিয়ে মোটামুটি ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাস ন্যাশনাল গ্রিডে দেওয়া হবে। নতুন কার্গো আসায় টার্মিনালটি চালু হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে চলা তীব্র গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, গ্যাস সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল বিকাল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৩০৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে ১ হাজার ৬২১ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ গ্যাস সরবরাহ।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা গত রাতে জানান, টার্মিনালটিতে এলএনজি সরবরাহকারী জাহাজটি (কার্গো) আজ (রোববার) পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই জাহাজটি মহেশখালীতে পৌঁছে যাওয়ায় আগের গ্যাস দিয়ে টার্মিনালটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। অবশ্য গত রাত ১০টা থেকে নতুন কার্গোর গ্যাস দেওয়া শুরু হয়েছে।

এই টার্মিনালের মজুত তলানিতে ঠেকায় ১৯ আগস্ট থেকে টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। তখন শুধু সামিটের টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫৬০ থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। এতে আবার গ্যাস সংকট বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎসহ কলকারখানার উৎপাদনে। টার্মিনালটি পুনরায় চালু হওয়ায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরপিজিসিএলের এলএনজি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, এক্সিলারেট ও সামিটের দুটি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাবে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহ পেতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। কার্গো সিডিউল হিসেব করেই গ্যাস সরবরাহের হার ঠিক করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিক চালু হয়। পরে কারিগরি সমস্যা ও সময়মতো এলএনজি কার্গো না পৌঁছায় সংকট লেগে থাকে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচমেক হাসপাতাল আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন
পরবর্তী নিবন্ধবর্তমানের আট গুণ বড় মহানগরের নকশা