কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় আল–আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখায় গ্রাহকদের জমা করা প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। গতকাল শনিবার দুপুরে পালংখালী স্টেশন চত্বরে মানববন্ধন শেষে কক্সবাজার–টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েকশ গ্রাহক। এতে প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বিকাল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পালংখালী বাজারের ওই এজেন্ট শাখায় টাকা জমা রাখলেও প্রয়োজনের সময় তা তুলতে পারছেন না তারা। পরে ব্যাংকের হিসাব ও নিজেদের কাছে থাকা জমার রসিদ যাচাই করে অনেকেই জমা করা টাকার সঙ্গে হিসাবের অমিল দেখতে পান। মামলার বাদী ও পালংখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার ফয়সাল আরিফ বলেন, তার হিসাবে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জমা ছিল। কিন্তু টাকা তুলতে গিয়ে তিনি হিসাবের সঙ্গে জমার অমিল দেখতে পান।
গ্রাহকরা বলছেন, মামলায় ২১ জন গ্রাহকের ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হলেও প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। তাদের দাবি, ওই এজেন্ট শাখায় আরও বহু গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা আটকে থাকতে পারে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং প্রত্যেক গ্রাহকের আমানত ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
মামলায় নয়জন আসামি : পুলিশ জানিয়েছে, আল–আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পালংখালী এজেন্ট শাখার এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন, ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলাম, ম্যানেজার হাবিব উল্লাহ ফরহাদসহ নয়জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থ আত্মসাৎ এবং হিসাবের নথি ও জমার রসিদে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ২১ গ্রাহকের হিসাবে মোট ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা জমা ছিল। মামলার বাদী আনোয়ার ফয়সাল আরিফের অভিযোগের ভিত্তিতে উখিয়া থানায় মামলাটি করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার স্থানীয়রা এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন ও ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলামকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার রাতে বলেন, ১৮ অগাস্ট একটি মামলা হয়। তবে এর আগেই ১৭ অগাস্ট বিকালে দুজনকে আটক করা হয়।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, পালংখালী বাজারের আল–আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখা থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে অবগত করা হয়েছে। গ্রাহকরা তাদের আমানত ফেরত পান, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে গ্রাহকদের কত টাকা আত্মসাৎ বা অনিয়মের শিকার হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন উখিয়ার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার।












