প্রথম দিনেই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১৮ হাজার গ্রাহক টাকা ফেরত নেওয়ার আবেদন করেছেন। এসব আবেদনে আমানতকারীরা মোট ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরত চেয়েছেন। ২ হাজার ৩৬৭ জন গ্রাহক ২৪৪ কোটি টাকার পুরো আমানত একেবারে তুলে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। গত মঙ্গলবার থেকে ব্যাংকটির শাখা ও উপশাখায় আমানত উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়।
প্রথম দিনেই একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের শাখাগুলোতে আমানতকারীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমানত ফেরতের আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে। আবেদন যাচাই–বাছাই শেষে গ্রাহকদের পাওনা টাকা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। সমপ্রতি অনিয়ম ও আর্থিক সংকটে পড়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক–এঙ্মি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়। খবর বাংলানিউজের।
টাকা পরিশোধ শুরু ৭ সেপ্টেম্বর
প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টাকা উত্তোলনের আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতের মূল টাকা এককালীন উত্তোলন বা নগদায়নের সুযোগ দেওয়া হবে। আল–ওয়াদিয়া চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব, এমটিডিআর ও ডিপিএসসহ বিভিন্ন হিসাব থেকে গ্রাহকেরা মূল টাকা তুলতে পারবেন। তবে এককালীন মূল টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, হিসাব বন্ধ না করে চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাওয়া যাবে। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ মিলবে। এর আগে গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলন সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে।
একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে, যার মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় ৮৬ শতাংশই খেলাপি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সরকারি মালিকানায় যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।












