পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ দাওয়াতে খায়েরের কনভেনশনে গাউসিয়া কমিটির ভাই ও মুয়াল্লিমদের মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন, আজ আপনাদের জন্য সুখবর হচ্ছে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত দাওয়াতে খায়ের এর কর্মসুচি মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি এ জন্য আনজুমান ট্রাস্ট ও স্ট্যান্ডিং কমিটিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দাওয়াতে খায়েরের কাজ হচ্ছে ইসলামের শান্তির আহ্বান, কোরআনের বাণী, সাহাবায়ে কেরামের পথ ও মত এবং আউলিয়ায়ে কেরামের আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। তিনি পবিত্র কোরআানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, মুসলমানদের কাজ হচ্ছে কল্যাণের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়া। যারা কল্যাণকামী তারাই কল্যাণের বার্তা পৌঁছিয়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে আপনারাই একমাত্র দাবিদার। মনে রাখবেন, কল্যাণের পথে কাজ করতে গিয়ে বাধা আসবে, অনেক সমালোচনা ও ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে, সেই দিকে ভ্রুক্ষেপ করবেন না। তিনি বলেন, হুজুরেকেরাম আনজুমান দিয়েছেন, জামেয়া দিয়েছেন এর মাধ্যমে ইসলামের আলো শিক্ষার প্রদীপ জ্বালিয়েছেন। এখন দাওয়াতে খায়েরের মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে সেই শিক্ষার আলো পৌঁছিয়ে দিতে হবে। এসময় তিনি আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহির প্রতিষ্ঠিত গাউসিয়া কমিটির অবদানের কথা তুলে ধরেন। তৈয়ব শাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি গাউসিয়া কমিটি কেন প্রতিষ্ঠা করেছেন তা এখন আর ব্যাখ্যা করতে হবে না। তিনি বাঙালি মুসলমানদের ভাগ্যবান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আনজুমান, জামেয়া, গাউসিয়া কমিটি, দাওয়াতে খায়েরের মাধ্যমে দ্বীন মাজহাবের খিদমাত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার, সমাজ ও বিশ্বে শান্তি ফেরাতে ইসলামের অনুসরণের বিকল্প নেই। সৎ কাজের শ প্রদান এবং মন্দ কাজ খেকে বিরত রাখার প্রয়াস মুসলমানদের একটি দলকে অবশ্যই চালাতে হবে। ‘দাওয়াতে খায়র’ মানে কল্যাণের পথে আহ্বান। এ আহ্বান বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। এ জন্য দাওয়াতে খায়েরর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। দাওয়াতে খায়েরের উদ্দেশ্য হলো ঈমানের উপর মৃত্যু এবং ইসলামের পথে জীবন যাপনে মানুষকে উৎসাহিত করা, এজন্য হাতে কলমে ইসলামের শিক্ষা দীক্ষা সব বয়সের নারী–পুরুষ–শিশু নির্বিশেষে সবার জন্য নিশ্চিত করা। ঈমানের সঞ্জিবনী শক্তি রাসুলে করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা ও মুহাব্বত। আমাদের সকল কাজে থাকতে হবে পরিশুদ্ধ নিয়ত, ইস্তেকামাত ও ইশক ও হুব্বে রাসুল।
গতকাল বুধবার জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা জুলুস ময়দানে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ‘দাওয়াতে খায়র দাঈ ও মুয়াল্লিম কনভেনশনে আওলাদ রাসুল আল্লামা সৈয়দ মুহম্মদ সাবির শাহ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাসুল প্রদত্ত দাওয়াতকে বিশ্বমানবতার কাছে পৌঁছানোই দাওয়াতে খায়েরের একমাত্র লক্ষ্য।
আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান দাওয়াতে খায়র স্ট্যান্ডিং কমিটি আয়োজিত কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন আনজুমান ট্রাস্টের নির্বাহী সভাপতি আওলাদে রাসুল আল্লামা পীর সৈয়্যদ মুহাম্মাদ সাবির শাহ্ (মাজিআ)। প্রধান মেহমান ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মাদ কাসেম শাহ্। বিশেষ মেহমান ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ আকিব আহমদ শাহ্। অতিথি ছিলেন, সাঈদ আল নোমান এমপি, আনজুমানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনজুর আলম মনজু, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস এম গিয়াসউদ্দিন সাকের, ফিন্যান্স সেক্রেটারি কমর উদ্দিন সবুর, প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দিন, ক্যাবিনেট সদস্য পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনার, ক্যাবিনেট সদস্য মোহাম্মদ হোসেন খোকন, ক্যাবিনেট সদস্য মাহমুদ নেওয়াজ, আনজুমান রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক আল্লামা এম এ মান্নান, পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ হাশেম, আনজুমান সদস্য গবেষক ড. মাওলানা সাইফুল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন, দাওয়াতে খায়র স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ অসিয়র রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দাওয়াতে খায়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সচিব মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার। বিকেল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বয়ান পেশ করেন আল্লামা মুফতি কাজী আবদুল ওয়াজেদ, জামেয়া অধ্যক্ষ মাওলানা হাফেজ আবদুল আলিম রেজভী, জামেয়ার উপাধ্যক্ষ ড. মাওলানা লিয়াকত আলী, অধ্যাপক সৈয়দ জালাল উদ্দীন আল আজহারী, মুয়াল্লিম মাওলানা এমরান হাসান কাদেরী প্রমুখ। পরে মিলাদ কিয়াম শেষে হুজুর কেবলা দেশ ও জাতির কল্যাণে মোনাজাত করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












